ইরান যুদ্ধসহ বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত ব্যয়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের কাছে প্রায় ৮৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের নতুন অর্থ বরাদ্দ চেয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। তবে যুদ্ধ নিয়ে রাজনৈতিক বিভাজন এবং কংগ্রেসের সাম্প্রতিক অবস্থানের কারণে এই প্রস্তাব অনুমোদন পাওয়া সহজ হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হোয়াইট হাউসের বাজেট দপ্তর প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব জমা দিয়েছে। এতে সবচেয়ে বড় অংশ, প্রায় ৬৭ বিলিয়ন ডলার, প্রতিরক্ষা বিভাগের জন্য বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই অর্থ সামরিক প্রস্তুতি, যুদ্ধ পরিচালনার ব্যয়, গোলাবারুদ পুনরায় মজুত এবং অন্যান্য সামরিক কার্যক্রমে ব্যবহার করা হবে।
প্রস্তাবিত অর্থের মধ্যে গোলাবারুদ কেনার জন্য ২১ বিলিয়ন ডলার, সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য ১৭ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার এবং গোপন প্রতিরক্ষা কর্মসূচির জন্য ২১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে।
এই অর্থ বরাদ্দের আবেদন এমন সময় এসেছে, যখন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ প্রেসিডেন্টের ইরানবিষয়ক সামরিক ক্ষমতা সীমিত করার একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান চালানো যাবে না। কয়েকজন সরকারি দলের সদস্যও বিরোধীদের সঙ্গে ভোট দিয়ে এই প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নেন।
সাম্প্রতিক জনমত জরিপেও দেখা গেছে, ইরান যুদ্ধের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের সমর্থন কমে এসেছে। এক জরিপে মাত্র প্রায় এক-চতুর্থাংশ উত্তরদাতা যুদ্ধকে ব্যয়ের তুলনায় যৌক্তিক বলে মনে করেছেন।
সরকারি দলের ভেতরেও এ নিয়ে মতবিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। একাধিক সিনেট সদস্য প্রশাসনের কাছে যুদ্ধের উদ্দেশ্য ও অগ্রগতির পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা দাবি করেছেন। তাদের মতে, নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অনেক বেশি সময় ধরে অভিযান চললেও ঘোষিত লক্ষ্য এখনো অর্জিত হয়নি।
অন্যদিকে বিরোধী দলীয় আইনপ্রণেতারা নতুন ব্যয় প্রস্তাবের সমালোচনা করেছেন। তাদের অভিযোগ, নিয়মিত বাজেট প্রক্রিয়ার বাইরে বিপুল অঙ্কের প্রতিরক্ষা ব্যয় অনুমোদনের চেষ্টা করা হচ্ছে এবং তারা এ প্রস্তাব সমর্থন করবেন না।
তবে প্রশাসনের সমর্থকরা বলছেন, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে সামরিক সক্ষমতা বজায় রাখতে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ প্রয়োজন।
প্রতিরক্ষা ব্যয়ের পাশাপাশি প্রস্তাবে কৃষি সহায়তার জন্য ১১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার, আফ্রিকায় ইবোলা মোকাবিলায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার, নিউইয়র্কের গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশন উন্নয়নে ১ বিলিয়ন ডলার এবং রাজধানী ওয়াশিংটনে বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে আরও ৫০০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
















