যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ডেমোক্রেটিক দলের প্রাথমিক নির্বাচনে ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থানের জন্য পরিচিত একাধিক প্রার্থী জয় পেয়েছেন। এই ফলাফলকে দেশটির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষক ও অধিকারকর্মীরা।
নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির সমর্থন পাওয়া দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ের দীর্ঘদিনের কংগ্রেস সদস্য আদ্রিয়ানো এস্পাইলাতকে পরাজিত করে ডেমোক্রেটিক মনোনয়ন নিশ্চিত করেছেন। নির্বাচনী প্রচারে তিনি অভিবাসী পরিবারের অধিকার রক্ষা এবং ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতির বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন।
একই নির্বাচনে মামদানি-সমর্থিত আরও দুই প্রার্থীও জয় পেয়েছেন। সামরিক সহায়তা নীতির সমালোচক ব্র্যাড ল্যান্ডার এবং প্রগতিশীল আইনপ্রণেতা ক্লেয়ার ভালদেজ নিজ নিজ আসনে মনোনয়ন লাভ করেন। সংশ্লিষ্ট আসনগুলো ডেমোক্রেটিক দলের শক্ত ঘাঁটি হওয়ায় সাধারণ নির্বাচনেও তাদের জয়ের সম্ভাবনা বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় পর্যায়েও ইসরায়েলের নীতির সমালোচক হিসেবে পরিচিত কয়েকজন প্রার্থী জয় পেয়েছেন। তাদের মধ্যে আবর কাওয়াস রাজ্যের উচ্চকক্ষে প্রথম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত সদস্য হওয়ার পথে রয়েছেন।
ফিলিস্তিনপন্থী বিভিন্ন সংগঠন এই ফলাফলকে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাদের মতে, ফিলিস্তিনের অধিকার, শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থ, অভিবাসী অধিকার এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের পক্ষে অবস্থান এখন ভোটারদের মধ্যে ক্রমেই বেশি গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ করে ডেমোক্রেটিক সমর্থকদের মধ্যে ইসরায়েল-সম্পর্কিত নীতিতে জনমতের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যদিও কেন্দ্রীয় সরকারের পররাষ্ট্রনীতিতে তাৎক্ষণিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা সীমিত, তবুও নতুন প্রজন্মের এই প্রতিনিধিরা ভবিষ্যতে কংগ্রেসে এ বিষয়ে নতুন বিতর্ক ও নীতিগত চাপ সৃষ্টি করতে পারেন।
নির্বাচনী প্রচারে ইসরায়েলপন্থী বিভিন্ন সংগঠন বিপুল অর্থ ব্যয় করলেও প্রগতিশীল প্রার্থীদের সাফল্য প্রমাণ করেছে যে ফিলিস্তিনের অধিকারের পক্ষে অবস্থানও এখন নির্বাচনী রাজনীতিতে কার্যকর বার্তা হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
















