পাকিস্তানের বেলুচিস্তান অঞ্চলে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান ও মানবাধিকার রক্ষার আন্দোলনের অন্যতম মুখ মাহরাং বেলুচকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একটি সন্ত্রাসবিরোধী আদালত তাকে ও আরেক কর্মী সিবগাতুল্লাহকে এক আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য হত্যার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত করেছে।
আদালতের রায়ে বলা হয়, ২০২৪ সালে উপকূলীয় শহর গোয়াদারে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে তারা অবৈধ জমায়েতে সক্রিয় ছিলেন এবং ওই ঘটনার সঙ্গে তাদের অভিন্ন উদ্দেশ্য ছিল। একই সঙ্গে নিহত সদস্যের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সমাবেশে দেওয়া উসকানিমূলক বক্তব্যের পর বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ নিরাপত্তা বাহিনীর একটি যানবাহনের ওপর হামলা চালায়। পরে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া এক সদস্য নিহত হন। তবে মাহরাং বেলুচ ও তার সহকর্মীরা শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
বিচার প্রক্রিয়া বর্জন করে আসা আসামিপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেছেন, তাদের ন্যায্য বিচার পাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। প্রত্যক্ষদর্শীদের জেরা করার যথাযথ সুযোগও ছিল না বলে তারা অভিযোগ করেন। মাহরাংয়ের পরিবারও রায় প্রত্যাখ্যান করেছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো রায়ের সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, মৌলিক অধিকার নিয়ে কাজ করা কর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণের ফলে বিচারিক প্রক্রিয়া একপেশে হয়ে উঠেছে। রায় পুনর্বিবেচনারও দাবি জানানো হয়েছে।
মাহরাং বেলুচ দীর্ঘদিন ধরে বেলুচিস্তানে জোরপূর্বক গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। তার দাবি, ২০০৯ সালে তার বাবাকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তুলে নিয়ে যায় এবং দুই বছর পর নির্যাতনের চিহ্নসহ তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে তিনি নিখোঁজ স্বজনদের ন্যায়বিচারের দাবিতে দীর্ঘ পদযাত্রাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন। তার সংগঠন বেলুচিস্তানে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করে আসছে। তবে সরকারপক্ষের অভিযোগ, সংগঠনটির সঙ্গে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীর যোগাযোগ রয়েছে, যা সংগঠনটি বরাবরই অস্বীকার করে এসেছে।
















