টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের নদ-নদী ও হাওরাঞ্চলে পানি বৃদ্ধি পেলেও বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। তবে আগামী দুই দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় পানি আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
সোমবার পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে ৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। একই সময়ে ভারতের চেরাপুঞ্জি ও মৌসিনরাম অঞ্চলেও বৃষ্টিপাত হয়েছে। তবে উজানে বৃষ্টি তুলনামূলক কম হওয়ায় পাহাড়ি ঢলের তীব্রতা কিছুটা কমেছে।
সকাল ৯টায় সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানির উচ্চতা ছিল ৭ দশমিক ১৮ মিটার, যা বিপৎসীমার ৬২ সেন্টিমিটার নিচে। তবে ভারী বৃষ্টি ও নতুন করে ঢল নামলে কিছু এলাকায় নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার জানিয়েছেন, সোমবার ও মঙ্গলবার বৃষ্টির কারণে নদী ও হাওরের পানি বাড়বে। কোথাও কোথাও পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে, তবে বড় ধরনের বন্যার সম্ভাবনা নেই।
সপ্তাহান্তে সীমান্তবর্তী সদর, তাহিরপুর, ছাতক, দোয়ারাবাজার ও মধ্যনগর উপজেলার বিভিন্ন সড়ক, হাটবাজার ও বসতবাড়ি প্লাবিত হলেও বর্তমানে অধিকাংশ এলাকা থেকে পানি নেমে গেছে। তবে তাহিরপুরের কলাগাঁও, চানপুর, চারাগাঁও ও বড়ছড়া এলাকায় পাহাড়ি ঢলের তোড়ে ঘরবাড়ি ও সড়কের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
মঙ্গলকাটা বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, আকস্মিক ঢলে বাজারের অনেক দোকানে পানি ঢুকে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে রোববার বিকেল থেকে পানি কমতে শুরু করায় বর্তমানে বাজার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অনেকের মতে, হাওর অঞ্চলে মাছের প্রজনন ও নৌযাতায়াতের সুবিধার জন্য স্বাভাবিক মৌসুমি বন্যা উপকারী ভূমিকা পালন করে।
সার্বিকভাবে, সুনামগঞ্জে পানি বৃদ্ধি নিয়ে সতর্কতা থাকলেও প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের মূল্যায়নে পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে এবং বড় ধরনের দুর্যোগের আশঙ্কা নেই।
















