তাইওয়ানের বিশেষ ফল আতেমোয়া নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে চীন-তাইওয়ান সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে। চীন এই ফলের আমদানি বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পর তাইওয়ান সরকার কৃষকদের সতর্ক করেছে, দাবি করেছে যে এটি বেইজিংয়ের অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের পরিচিত কৌশলের অংশ হতে পারে।
আতেমোয়া হলো বিভিন্ন প্রজাতির কাস্টার্ড অ্যাপলের সংকর ফল, যা মূলত তাইওয়ানের তাইতুং কাউন্টিতে উৎপাদিত হয়। চীন দীর্ঘদিন ধরে এই ফলের অন্যতম প্রধান আমদানিকারক।
তাইওয়ানের কৃষি মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, চীনের এই পদক্ষেপ তথাকথিত “বাড়াও, ফাঁদে ফেলো, তারপর আঘাত করো” কৌশলের উদাহরণ। তাদের অভিযোগ, প্রথমে বড় আকারে আমদানি করে কৃষকদের একটি বাজারের ওপর নির্ভরশীল করে তোলা হয়, পরে হঠাৎ করে আমদানি নিষেধাজ্ঞা বা বাণিজ্যিক বাধা আরোপ করা হয়।
২০২১ সালে চীন কীটপতঙ্গ সংক্রান্ত উদ্বেগ দেখিয়ে তাইওয়ানের আতেমোয়া ও আনারস আমদানি বন্ধ করে দেয়। পরে ২০২৩ সালে আংশিকভাবে আমদানি পুনরায় চালু হলেও ২০২৪ সালে ফলটির ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়। তাইওয়ানের দাবি, এসব পদক্ষেপ কৃষকদের আয় ও বাজার স্থিতিশীলতার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে।
এদিকে চলতি মাসে চীনের উপকূলীয় শহর জিয়ামেনে অনুষ্ঠিত এক ফোরামে কয়েকটি চীনা প্রতিষ্ঠান তাইওয়ানের আতেমোয়া, চা ও মাছসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য বেশি পরিমাণে কেনার প্রতিশ্রুতি দেয়। এই ঘোষণার পরই বিতর্ক নতুন মাত্রা পায়।
তাইওয়ান সরকার আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে চীন নিজস্ব আতেমোয়া উৎপাদনও বাড়াচ্ছে, যা ভবিষ্যতে তাইওয়ানের কৃষকদের জন্য প্রতিযোগিতামূলক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
তবে বিরোধী দল কুওমিনতাং (কেএমটি) সরকারের এই সতর্কবার্তার সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, কৃষি খাতকে রাজনৈতিক বিরোধের অংশ বানানো হলে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হবেন কৃষকরাই।
তাইপেইর মেয়র চিয়াং ওয়ান-আন বলেছেন, আতেমোয়া হলো “ফলের জগতের টিএসএমসি”, অর্থাৎ তাইওয়ানের বিশ্বখ্যাত সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের মতোই একটি অনন্য সম্পদ। তিনি দাবি করেন, বিশ্বের আর কোনো দেশ তাইওয়ানের আতেমোয়ার মতো মানসম্পন্ন ও সুস্বাদু ফল উৎপাদন করতে পারে না।
বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনার পাশাপাশি বাণিজ্য ও কৃষিপণ্যও এখন চীন-তাইওয়ান সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। ফলে একটি ফলকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতারই প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
















