ইরান পুনরায় হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করার পর গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। জাহাজ পর্যবেক্ষণ তথ্য অনুযায়ী, রোববার প্রণালিটি দিয়ে মাত্র ১২টি জাহাজ চলাচল করেছে, যা আগের দিনের ৩৫টি ট্রানজিটের তুলনায় অনেক কম।
সামুদ্রিক গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান উইন্ডওয়ার্ড জানিয়েছে, প্রণালিতে প্রবেশকারী আটটি জাহাজের মধ্যে পাঁচটি তাদের অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (এআইএস) বন্ধ রেখেছিল। প্রতিষ্ঠানটির মতে, বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক উন্মুক্ত নৌপথের চেয়ে বরং পূর্ববর্তী অবরোধকালীন অবস্থার সঙ্গে বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) শনিবার হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দেয়। তাদের দাবি, লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকা এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতার কারণেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, নৌপথে নিরাপদ চলাচল অব্যাহত রয়েছে এবং শনিবার ৫৫টি বাণিজ্যিক জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে। দুই পক্ষের তথ্যের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা দেওয়ায় প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, অনেক জাহাজ শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ রেখে ওমান উপকূলঘেঁষা পথ ব্যবহার করায় ট্রাফিকের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ কঠিন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়েরই নিজেদের অবস্থানকে শক্তিশালীভাবে তুলে ধরার কৌশলগত স্বার্থ রয়েছে।
এদিকে সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য একটি নতুন ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
উত্তেজনা বাড়লেও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা যায়নি। সোমবার এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সামান্য কমেছে এবং জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানের শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী অবস্থায় লেনদেন শুরু করেছে।
















