পূর্ব আফ্রিকায় ছড়িয়ে পড়া সাম্প্রতিক ইবোলা প্রাদুর্ভাব ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। রোগটির বিস্তার নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় অর্থায়নের ঘাটতি, চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট এবং সংঘাতপূর্ণ এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়াকে বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বর্তমানে কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে এই প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল গড়ে উঠেছে। সেখানে শত শত মানুষ আক্রান্ত হয়েছে এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা নিশ্চিত হওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এবার যে ধরনের ভাইরাস ছড়াচ্ছে তার জন্য এখনো অনুমোদিত কোনো কার্যকর টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। ফলে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে মূলত উপসর্গ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, যা রোগ প্রতিরোধে বড় সীমাবদ্ধতা তৈরি করেছে।
আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, সংক্রমিত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা হাজার হাজার মানুষকে এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, অজানা এসব সংক্রমণ নতুন নতুন এলাকায় রোগ ছড়িয়ে দিতে পারে।
পূর্বাঞ্চলীয় সংঘাতপূর্ণ এলাকাগুলোতে সশস্ত্র সহিংসতা এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের ভিড় রোগ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে আরও কঠিন করে তুলেছে। অনেক অঞ্চলে স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপদে যাতায়াত এবং আক্রান্তদের খুঁজে বের করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
এদিকে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ভুল তথ্য, অবিশ্বাস এবং কুসংস্কারও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। অনেক মানুষ রোগের লক্ষণ গোপন করছেন বা চিকিৎসা নিতে দেরি করছেন। কিছু এলাকায় স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসা স্থাপনাতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।
স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো বলছে, প্রয়োজনীয় অর্থায়ন দ্রুত না বাড়ালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। আন্তর্জাতিক সহায়তা আগের বড় প্রাদুর্ভাবগুলোর তুলনায় অনেক কম হওয়ায় রোগ মোকাবিলার সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত অর্থায়ন, চিকিৎসা অবকাঠামো শক্তিশালী করা, জনগণের আস্থা অর্জন এবং আক্রান্তদের শনাক্তকরণ কার্যক্রম জোরদার করা না গেলে এই প্রাদুর্ভাব অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে।
















