গাজায় ইসরায়েলের দীর্ঘ সামরিক অভিযানের সময় বিশ্বের অন্তত ৫১টি দেশ ও স্বশাসিত অঞ্চল থেকে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ অব্যাহত ছিল বলে এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের গণহত্যার ঝুঁকি সংক্রান্ত সতর্কতার পরও এই অস্ত্র প্রবাহ বন্ধ হয়নি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
দীর্ঘ অনুসন্ধানের ভিত্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের আমদানি নথি, শুল্ক তথ্য এবং তথ্য অধিকার আইনের আওতায় সংগৃহীত নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ইউরোপ, এশিয়া, উত্তর আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার বহু দেশ থেকে সামরিক সরঞ্জাম ইসরায়েলে পৌঁছেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজা যুদ্ধে ব্যবহৃত গোলাবারুদ, বিস্ফোরক, অস্ত্রের যন্ত্রাংশ এবং সাঁজোয়া যানবাহনের উপকরণ নিয়মিতভাবে ইসরায়েলে পাঠানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিচার আদালত গাজায় গণহত্যার সম্ভাব্য ঝুঁকির কথা উল্লেখ করার পর অস্ত্র আমদানি আরও বেড়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তদন্তে দেখা গেছে, যুদ্ধ চলাকালে সবচেয়ে বেশি সামরিক পণ্য পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত। এছাড়া রোমানিয়া, তাইওয়ান ও চেক প্রজাতন্ত্র থেকেও বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম গেছে। ইউরোপীয় বিভিন্ন দেশ প্রকাশ্যে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার কথা বললেও বাস্তবে সামরিক পণ্য সরবরাহ অব্যাহত ছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
বিশ্লেষণে বলা হয়, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েলে হাজার হাজার সামরিক চালান পৌঁছেছে। এসব চালানের আর্থিক মূল্য কয়েকশ কোটি শেকেলের বেশি। যুদ্ধবিরতির পরও অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ হয়নি।
আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গণহত্যার ঝুঁকি সম্পর্কে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের সতর্কতার পরও যারা অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে, তারা আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে দায় এড়াতে পারবে না। তাদের মতে, গণহত্যা প্রতিরোধ করা শুধু নৈতিক নয়, আন্তর্জাতিক আইনি বাধ্যবাধকতাও।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গাজায় ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়েছে বিস্ফোরক অস্ত্র। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজার অধিকাংশ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। হাসপাতাল, স্কুল, আশ্রয়কেন্দ্র ও আবাসিক এলাকা ব্যাপকভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে।
একাধিক মানবাধিকার সংস্থা অভিযোগ করেছে, যুদ্ধ চলাকালে খাদ্য সহায়তা নিতে আসা সাধারণ মানুষের ওপরও গুলি চালানো হয়েছে। এ সময় বিপুল পরিমাণ গুলি ও গোলাবারুদ ইসরায়েলে পৌঁছানোর তথ্যও উঠে এসেছে তদন্তে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে যুদ্ধবিরতির দাবি উঠলেও বাস্তবে বহু দেশ রাজনৈতিক বক্তব্যের বাইরে গিয়ে সামরিক সহায়তা চালিয়ে গেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
















