রাশিয়া ও বেলারুশের যৌথ পারমাণবিক মহড়াকে ঘিরে ইউরোপজুড়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু সামরিক শক্তির প্রদর্শন নয়, বরং পশ্চিমা জোট ও ইউক্রেনের প্রতি কৌশলগত বার্তাও বহন করছে।
বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো প্রথমবারের মতো রাশিয়ার কৌশলগত ও স্বল্পপাল্লার পারমাণবিক মহড়ায় সরাসরি অংশ নেন। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তিনি পূর্ব ইউরোপ থেকে প্রশান্ত মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত সামরিক মহড়া পর্যবেক্ষণ করেন।
মহড়ায় শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, যুদ্ধবিমান, যুদ্ধজাহাজ ও পারমাণবিক সাবমেরিন অংশ নেয়। এ সময় রাশিয়া আন্তঃমহাদেশীয় হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে, যা অল্প সময়ের মধ্যে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছায়।
বিশ্লেষকদের ধারণা, রাশিয়া বেলারুশে স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে ইউরোপ ও সামরিক জোট ন্যাটোর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইউক্রেন সীমান্তের কাছাকাছি সামরিক ঘাঁটিগুলোতে এসব অস্ত্র সংরক্ষণ করা হয়েছে।
রাশিয়া দাবি করছে, তারা কাউকে হুমকি দিচ্ছে না। তবে পশ্চিমা দেশগুলো এই মহড়াকে স্পষ্ট শক্তি প্রদর্শন হিসেবে দেখছে। ন্যাটোর মহাসচিব সতর্ক করে বলেছেন, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করা হলে জোটের প্রতিক্রিয়া হবে ভয়াবহ।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, রাশিয়া বেলারুশকে নতুন সামরিক আগ্রাসনের অংশ বানানোর চেষ্টা করছে। যদিও অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, বেলারুশের বর্তমান সামরিক সক্ষমতা দিয়ে নতুন বড় আকারের হামলা চালানো সহজ হবে না।
একই সঙ্গে ধারণা করা হচ্ছে, এই মহড়ার পেছনে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক হিসাবও রয়েছে। ইউরোপীয় নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক সংকটে থাকা বেলারুশ সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছে। লুকাশেঙ্কোও সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে অনাগ্রহের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
তবে বিশ্লেষকদের সতর্কতা, পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বেলারুশ আরও গভীরভাবে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
















