দেশের জন্য যুদ্ধ করেও অনিশ্চয়তায় ভুগছেন অনেকে
গণবহিষ্কার নীতিতে উদ্বেগ বাড়ছে সাবেক সেনাদের মধ্যে
যুক্তরাষ্ট্রে গণবহিষ্কার নীতি জোরদার হওয়ায় অভিবাসী সাবেক সেনাদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। যারা দেশটির সেনাবাহিনীতে কাজ করেছেন, তারাও এখন বহিষ্কারের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন—এমন আশঙ্কা বাড়ছে।
বেনিতো মিরান্দা হার্নান্দেজ নামে এক সাবেক সেনা, যিনি ইরাক যুদ্ধে দায়িত্ব পালন করেছেন, বর্তমানে একটি পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় কাজ করছেন। তিনি বলেন, মুক্তি পাওয়ার পর যেকোনো সময় তাকে আটক করে দেশছাড়া করা হতে পারে।
শৈশবে সীমান্ত পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসা হার্নান্দেজের পরিবার, সন্তান ও জীবন সবই এই দেশকে ঘিরে। কিন্তু নাগরিকত্ব না থাকায় তার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে আছে।
তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে লক্ষাধিক অভিবাসী সাবেক সেনা রয়েছেন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক এখনো নাগরিকত্ব পাননি। তাদের অনেকেই যুদ্ধ শেষে সাধারণ জীবনে ফিরে গিয়ে নানা সমস্যার মুখে পড়েছেন।
অনেক ক্ষেত্রে যুদ্ধ-পরবর্তী মানসিক চাপ, আঘাতজনিত সমস্যা ও আসক্তির কারণে কিছু সাবেক সেনা অপরাধে জড়িয়ে পড়েন, যা পরবর্তীতে তাদের বহিষ্কারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
অভিবাসন আইনের কঠোরতার কারণে অতীতে অনেক সাবেক সেনাকেও বহিষ্কার করা হয়েছে। বিশেষ করে অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হয়ে যায়।
অধিকারকর্মীরা বলছেন, সাবেক সেনাদের বহিষ্কার কোনো লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপ নয়, বরং কঠোর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবেই তারা এতে আক্রান্ত হচ্ছেন।
কিছু উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা পর্যাপ্ত নয়। বহিষ্কৃত সাবেক সেনাদের দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া সীমিত এবং অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতায় আটকে থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা একটি দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন, তাদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা থাকা উচিত। অন্যথায় এটি মানবিক ও নৈতিক প্রশ্ন তৈরি করে।
সব মিলিয়ে, অভিবাসী সাবেক সেনাদের জন্য পরিস্থিতি এখন জটিল ও অনিশ্চিত, যেখানে দেশের জন্য অবদান রাখার পরও তাদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ নয়।
















