ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ-এর বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে এবার এক অদ্ভুত প্রচার কৌশল নজর কেড়েছে—হাতে মাছ নিয়ে ভোট চাইছেন প্রার্থীরা। বিশেষ করে ভারতীয় জনতা পার্টি-এর প্রার্থীরা ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ গড়তে এই পদ্ধতি ব্যবহার করছেন।
একজন প্রার্থী দরজায় দরজায় গিয়ে হাতে বড় কাটলা মাছ নিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন—যা এখন নির্বাচনের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রশ্ন উঠেছে, এই মাছ কি সত্যিই ভোটের ফল বদলাতে পারবে?
পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৬ কোটি ৮০ লাখ ভোটার ২৯৪টি আসনের জন্য ভোট দিচ্ছেন। এই রাজ্যে এখন পর্যন্ত কখনো ক্ষমতায় আসতে পারেনি বিজেপি। অন্যদিকে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবারও ক্ষমতায় ফেরার লড়াই করছেন।
নির্বাচনের অন্যতম বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে পরিচয় রাজনীতি এবং খাদ্যাভ্যাস। মমতা বারবার অভিযোগ করেছেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে মাছ, মাংস ও ডিমের মতো খাবারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে—যা বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। যদিও বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মাছকে ঘিরে এই বিতর্ক মূলত রাজনৈতিকভাবে তৈরি করা একটি বিষয়। তবুও এটি ভোটারদের মধ্যে বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং নির্বাচনী প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নিয়েছে।
বাঙালির জীবনে মাছের গুরুত্ব ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক। নদী ও সমুদ্রঘেরা এই অঞ্চলে মাছ সহজলভ্য খাদ্য, এবং প্রায় ৬৫ শতাংশ মানুষ নিয়মিত মাছ খান। ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানেও মাছের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে মাছকে ব্যবহার করে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা অনেকের কাছে কৌশলগত মনে হলেও, সমালোচকরা এটিকে কেবল প্রচারণার অভিনব কৌশল বা গিমিক হিসেবে দেখছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণের রাজনীতি উত্তর ভারতে কিছুটা প্রভাব ফেললেও পশ্চিমবঙ্গে তা ততটা কার্যকর নয়। তাই ভোটারদের মন জয় করতে দলগুলোকে স্থানীয় সংস্কৃতি ও পরিচয়ের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, মাছ এখন শুধু রান্নাঘরের বিষয় নয়—পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী রাজনীতির এক প্রতীক হয়ে উঠেছে। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটের ফল নির্ধারণ করবে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
















