মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন সম্ভাব্য আলোচনা শুরুর প্রাক্কালে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ মঙ্গলবার জানায়, ইরানের অস্ত্র খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে ১৪ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা ইরানের জন্য অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহে সহায়তা করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ এমন সময় এলো, যখন পাকিস্তান-এ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তেহরান এখনো আলোচনায় অংশগ্রহণের বিষয়ে নিশ্চিত কিছু জানায়নি, কারণ তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত রয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ইরানের ওপর আর্থিক চাপ আরও বাড়ানোই তাদের লক্ষ্য, যাতে তারা চলমান সংঘাতের অবসানে ছাড় দিতে বাধ্য হয়। অন্যদিকে, ইরান যে কোনো চুক্তির অংশ হিসেবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইরান, তুরস্ক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানকারী কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে দুবাইভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে যে তারা ইরানের একটি বিমান সংস্থার জন্য বিদেশি যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করেছে।
এছাড়া কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অস্ত্র বা তার উপাদান পরিবহন ও সংগ্রহে জড়িত থাকার অভিযোগও এনেছে যুক্তরাষ্ট্র। এসব পদক্ষেপের ফলে সংশ্লিষ্টদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পদ জব্দ হবে এবং মার্কিন নাগরিকদের তাদের সঙ্গে লেনদেন নিষিদ্ধ থাকবে।
এই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণার কিছুক্ষণ পরই ট্রাম্প জানান, তিনি ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যাতে আলোচনার জন্য সময় পাওয়া যায়। যদিও এর আগে তিনি যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।
বর্তমানে পরিস্থিতি জটিল হয়ে রয়েছে, কারণ ইরান যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধকে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, তাদের বন্দর অবরোধ করা যুদ্ধের শামিল এবং এতে তারা আলোচনায় বসবে না।
এই পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য আলোচনা আদৌ অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
















