যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাতের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনায় ইরানকে ফিরিয়ে আনতে সময়ের সঙ্গে লড়াই করছে পাকিস্তান। তবে সাম্প্রতিক মার্কিন পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মার্কিন প্রতিনিধিদল আলোচনায় অংশ নিতে ইসলামাবাদে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা থাকার কথা রয়েছে।
অন্যদিকে, ইরান এখনো প্রকাশ্যে জানাচ্ছে যে তারা আলোচনায় ফিরতে আগ্রহী নয়। দেশটির কর্মকর্তারা বলছেন, হুমকি বা চাপের মধ্যে কোনো আলোচনা সম্ভব নয়।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় নতুন দফার আলোচনা আয়োজনের চেষ্টা চলছে। তবে যুদ্ধবিরতির সময়সীমা দ্রুত শেষের দিকে চলে আসায় অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সমুদ্রে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। মার্কিন বাহিনী ইরান-সংযুক্ত জাহাজে অভিযান চালিয়েছে, যা তেহরান যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাস আরও গভীর হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান আলোচনায় ফিরতে চাইলে প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রকে অন্তত আংশিকভাবে অবরোধ শিথিল করার ইঙ্গিত দিতে হবে। কারণ এই অবরোধই বর্তমানে প্রধান বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু।
এদিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও কঠোর অবস্থানকে প্রভাবিত করছে। বিশেষ করে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আলোচনার ক্ষেত্রে কঠোর শর্ত আরোপের পক্ষে রয়েছে বলে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর চাপ বজায় রেখে আলোচনা এগিয়ে নিতে চাইছেন। তিনি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধসহ বেশ কিছু কঠোর শর্ত দিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাকিস্তানের ভূমিকা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশটি একদিকে ওয়াশিংটন, অন্যদিকে তেহরানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে যোগাযোগের সেতু হিসেবে কাজ করছে।
তবে আলোচনায় অগ্রগতি না হলে আবারও পূর্ণমাত্রার সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা পুরো অঞ্চলের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
















