ইউক্রেন জানিয়েছে, রাশিয়ার তেল ইউরোপে সরবরাহকারী দ্রুজবা পাইপলাইন মেরামত শেষে আবার চালু করার জন্য প্রস্তুত। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, যুদ্ধের সময় ক্ষতিগ্রস্ত এই পাইপলাইন পুনরায় চালু হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আটকে থাকা আর্থিক সহায়তা ছাড় হওয়ার পথও খুলতে পারে।
ইউক্রেনের মধ্য দিয়ে চলা এই পাইপলাইনটি গত জানুয়ারিতে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তবে এখন মেরামত কাজ শেষ হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। জেলেনস্কি আশা প্রকাশ করেন, পাইপলাইন চালু হলে ইউরোপীয় সহায়তা প্যাকেজের অর্থ ছাড়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হবে।
হাঙ্গেরি দীর্ঘদিন ধরে এই সহায়তা আটকে রেখেছিল, কারণ দেশটি রাশিয়ার তেলের ওপর নির্ভরশীল। স্লোভাকিয়াও একইভাবে এই পাইপলাইনের ওপর নির্ভর করে আসছে। তারা ইউক্রেনের ওপর দ্রুত মেরামতের চাপ দিয়ে আসছিল।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতির প্রধান কাজা কাল্লাস জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই এ বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসতে পারে। ইউরোপীয় রাষ্ট্রদূতদের বৈঠকে চূড়ান্ত অনুমোদনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন সমুদ্রপথে রাশিয়ার তেল আমদানি নিষিদ্ধ করে। তবে স্থলপথে পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল পরিবহন চালু রাখা হয়, যার ফলে দ্রুজবা পাইপলাইন এখনও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে আছে।
ইউক্রেন বলছে, তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নের শর্ত পূরণ করেছে এবং এখন সহায়তা পাওয়ার আশা করছে। অন্যদিকে রাশিয়াও জানিয়েছে, প্রযুক্তিগতভাবে তারা পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল সরবরাহ পুনরায় শুরু করতে প্রস্তুত।
এদিকে ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা জানিয়েছে, দেশটির ড্রোন হামলায় রাশিয়ার একটি তেল সরবরাহ স্থাপনায় আঘাত হানা হয়েছে, যা দ্রুজবা পাইপলাইনের সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত।
সব মিলিয়ে, পাইপলাইন পুনরায় চালু হলে ইউরোপে জ্বালানি সরবরাহের পরিস্থিতি যেমন প্রভাবিত হবে, তেমনি ইউক্রেনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সহায়তা পাওয়ার পথও সহজ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
















