যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে হামলার ঘটনায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম হঠাৎ করে বেড়ে গেছে।
সোমবার এশিয়ার বাজারে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ৭ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পায়। পরে কিছুটা কমে প্রতি ব্যারেল প্রায় ৯৪ ডলারে স্থিতিশীল হয়, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
এই দাম বৃদ্ধির পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে হরমুজ প্রণালীতে সাম্প্রতিক হামলা ও চলমান উত্তেজনা। যুক্তরাজ্যের একটি সামুদ্রিক সংস্থা জানিয়েছে, প্রণালী পার হওয়ার সময় দুটি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে—একটিতে ইরানি নৌযান গুলি চালায় এবং অন্যটিতে অজ্ঞাত উৎস থেকে আঘাত হানে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের একটি জাহাজ আটক করা হয়েছে, যা মার্কিন অবরোধ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল।
শুক্রবার ইরান হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি উন্মুক্ত করার ঘোষণা দিলেও এক দিনের মধ্যে অবস্থান পরিবর্তন করে। তারা জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ চলমান থাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়।
এদিকে যুদ্ধবিরতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার বিষয়ে দুই দেশের বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, তবে ইরান এতে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে কোনো সমঝোতা না হলে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহন হয়। ফলে এখানে অস্থিতিশীলতা দেখা দিলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম আরও বাড়তে পারে এবং অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি হতে পারে।
















