ইতালির রাজধানী রোমে ধসে পড়া এক মধ্যযুগীয় টাওয়ারের ধ্বংসস্তুপ থেকে উদ্ধার করা রোমানিয়ান শ্রমিক অক্টাই স্ত্রোয়িচ হাসপাতালের বিছানায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। দীর্ঘ সময় ধরে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা এই শ্রমিককে সোমবার রাতে মারাত্মক আহত অবস্থায় উমবের্তো প্রথম হাসপাতাল নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু চিকিৎসকদের প্রাণপণ চেষ্টা সত্ত্বেও তাঁকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
ইতালির সংবাদ সংস্থা আনসা জানায়, প্রায় এক ঘণ্টা ধরে অক্টাইয়ের হৃদস্পন্দন ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ব্যর্থ চিকিৎসকরা মঙ্গলবার রাত ১২টা ২০ মিনিটে তাঁর মৃত্যুর ঘোষণা দেন।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, “রোমের তোরে দেই কন্তি টাওয়ারে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো অক্টাই স্ত্রোয়িচের এই মৃত্যু আমাদের জন্য গভীর বেদনার। সরকার ও দেশের পক্ষ থেকে আমি তাঁর পরিবার ও সহকর্মীদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাই।”
২৯ মিটার উচ্চতার তোরে দেই কন্তি টাওয়ারটি সোমবার দুপুরে আংশিকভাবে ধসে পড়ে। পুনর্নির্মাণ কাজ চলাকালীন আকস্মিক ধসের ফলে টাওয়ারের একটি অংশ রাস্তায় ছিটকে পড়ে, বাতাস ভরে যায় ধূলায়, বিশৃঙ্খলায় মোড়া পড়ে সমগ্র এলাকা।
অক্টাই ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন, আর তাঁকে উদ্ধার করতে গিয়ে দমকল বাহিনীর সদস্যদের মুখোমুখি হতে হয় জটিল পরিস্থিতির। প্রথমে মই ও জানালার মাধ্যমে তাঁকে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হলেও, দেড় ঘণ্টা পর টাওয়ারের আরও একটি অংশ ভেঙে পড়ায় উদ্ধার অভিযান থেমে যায়। পরে আবার ড্রোন ও ক্রেনের সাহায্যে ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ শুরু হয়, যা চলতে থাকে গভীর রাত পর্যন্ত।
রোমের প্রিফেক্ট লামবের্তো জিয়ানিনি সাংবাদিকদের বলেন, “প্রতিবার দেহের একটি অংশ মুক্ত করার পর নতুন করে ধ্বংসাবশেষ তার ওপর পড়ছিল, তাই অভিযানটি ছিল দীর্ঘ ও কঠিন।”
দমকল বিভাগের মুখপাত্র লুকা কারি জানান, প্রাথমিক ধসের পর তিন শ্রমিককে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। আরও এক শ্রমিক, ৬৪ বছর বয়সী এক ব্যক্তি, গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তবে দমকল বাহিনীর কেউ আহত হননি।
রোমের ঐতিহাসিক কেন্দ্রের ব্যস্ত এলাকায়, কলোসিয়ামের কাছেই অবস্থিত এই তোরে দেই কন্তি টাওয়ারটি ১৩শ শতকে পোপ ইনোসেন্ট তৃতীয় তাঁর পরিবারের জন্য নির্মাণ করেন। টাওয়ারটি ১৩৪৯ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ১৭শ শতকে আবার আংশিকভাবে ধসে পড়ে।
২০০৭ সাল থেকে বন্ধ থাকা এই স্থাপনাটি সম্প্রতি প্রায় ৮০ লাখ মার্কিন ডলারের এক পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় সংস্কার হচ্ছিল। এতে বিদ্যুৎ, পানি ও আলোকসজ্জা ব্যবস্থার পাশাপাশি নতুন এক জাদুঘর স্থাপনের পরিকল্পনাও ছিল।
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি বছরের জুনে কাজ শুরুর আগে টাওয়ারটির স্থিতিশীলতা যাচাই করা হয় এবং নিরাপত্তা মান নিশ্চিত করেই সংস্কার শুরু করা হয়েছিল। দুর্ঘটনার সময় প্রায় সব কাজই সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিল।
এদিকে, এই দুর্ঘটনাকে ঘিরে কূটনৈতিক বিতর্কও ছড়িয়ে পড়েছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া ঝাখারোভা টেলিগ্রামে এক মন্তব্যে বলেন, “যতদিন ইতালি ইউক্রেনের পেছনে জনগণের অর্থ অপচয় করবে, ততদিন তাদের টাওয়ার থেকে শুরু করে অর্থনীতি—সবই ধসে পড়বে।”
ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তায়ানি এ মন্তব্যকে “লজ্জাজনক” ও “অগ্রহণযোগ্য” বলে নিন্দা জানিয়েছেন এবং রোমে রুশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছেন।
















