যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার আগেই ১০ দফা কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ভঙ্গ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, এসব লঙ্ঘনের কারণে নতুন করে আলোচনা “অযৌক্তিক” হয়ে উঠছে।
সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় গালিবাফ দাবি করেন, যুদ্ধবিরতির ভিত্তি হিসেবে যে কাঠামো গ্রহণ করা হয়েছিল, তা ইতোমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এতে করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আস্থা কমে গেছে।
তিনি তিনটি বিষয়কে প্রধান লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেন। এগুলো হলো—লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকা, ইরানের আকাশসীমায় ড্রোন প্রবেশ এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার অস্বীকার করা।
এমন অভিযোগের মধ্যে দুই দিনের মাথায়ই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ভঙ্গুরতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এর মধ্যেই ইসরায়েল লেবাননে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
লেবাননের সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, সাম্প্রতিক হামলায় অন্তত ২৫৪ জন নিহত এবং এক হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছে, যা সংঘাতের অন্যতম ভয়াবহ দিন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইসরায়েল বলছে, লেবাননে তাদের হামলা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির আওতায় পড়ে না। একই অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রও।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের প্রস্তাবিত ১০ দফা পরিকল্পনা এবং হোয়াইট হাউসের সম্মত শর্ত এক নয়, যা আলোচনার আগে নতুন করে জটিলতা তৈরি করছে।
অন্যদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড হুঁশিয়ারি দিয়েছে, লেবাননে হামলা বন্ধ না হলে তারা পাল্টা জবাব দেবে।
এ পরিস্থিতিতে শুক্রবার পাকিস্তানে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে উভয় পক্ষের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সব পক্ষকে সংযম দেখানো এবং দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ তৈরি হয়।
তবে হরমুজ প্রণালী ঘিরেও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। কিছু প্রতিবেদনে আবারও পথটি বন্ধ থাকার কথা বলা হয়েছে, যদিও যুক্তরাষ্ট্র এ পরিস্থিতিকে “অগ্রহণযোগ্য” বলে উল্লেখ করেছে।
এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও আন্তর্জাতিক মহল দ্রুত ও স্থায়ী সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে, যদিও বাস্তব পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
















