সাময়িক স্বস্তির মাঝেও কৌশলগত জলপথ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে
ইরানের প্রভাব বাড়ার আশঙ্কায় দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকির কথা বলছেন বিশ্লেষকরা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি হলেও হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ঘিরে অনিশ্চয়তা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও অর্থনীতির ওপর ছায়া ফেলছে।
যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় সাময়িক স্বস্তি এলেও, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন ভবিষ্যতে কোনো সমঝোতা হলে তা ইরানকে হরমুজ প্রণালির ওপর প্রভাব বিস্তারের সুযোগ করে দিতে পারে।
বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধ চলাকালে এই পথ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দেয়।
উপসাগরীয় দেশগুলো আশঙ্কা করছে, যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করতে গিয়ে এমন কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে, যেখানে ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ পেয়ে যাবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে উপসাগরীয় দেশগুলো দীর্ঘমেয়াদে ইরানের চাপের মুখে থাকবে এবং অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এই দেশগুলো যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানালেও তারা স্পষ্টভাবে বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে এবং স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।
যুদ্ধের সময় ইরান বিভিন্ন উপসাগরীয় দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যা তাদের নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
এছাড়া কিছু প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালিতে শুল্ক আরোপ বা যৌথ নিয়ন্ত্রণের বিষয় উঠে আসায় উদ্বেগ আরও তীব্র হয়েছে।
উপসাগরীয় দেশগুলো বলছে, কোনো দেশকে বৈশ্বিক বাণিজ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ পথ নিয়ন্ত্রণের সুযোগ দেওয়া যাবে না।
সব মিলিয়ে, যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে এবং এর প্রভাব পুরো অঞ্চলের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতার ওপর পড়তে পারে।
















