ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এই পরিস্থিতিতে মিসর জ্বালানি সাশ্রয়ে একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে রাত ৯টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধ এবং দূর থেকে কাজের ব্যবস্থা চালু করা।
সরকার জানিয়েছে, জ্বালানি আমদানি ব্যয় দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কয়েক মাসের ব্যবধানে আমদানি খরচ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে।
সংকটের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়া। এই পথ দিয়ে বিশ্বে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। যুদ্ধের কারণে এই সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় মিসর সরকার যে পদক্ষেপগুলো নিয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—
প্রতিদিন রাত ৯টার মধ্যে দোকান, শপিং মল ও রেস্টুরেন্ট বন্ধ রাখা, তবে সপ্তাহের দুই দিনে কিছুটা সময় বাড়ানো হয়েছে।
সরকারি গাড়ির জ্বালানি ব্যবহার ৩০ শতাংশ কমানো হয়েছে।
রাস্তার বাতি ও বিজ্ঞাপনের আলোর ব্যবহার অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে।
সরকারি কর্মীদের জন্য সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে বাসা থেকে কাজের ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
তবে হাসপাতাল, ওষুধের দোকান এবং পর্যটন খাতের মতো জরুরি সেবাগুলো এই বিধিনিষেধের বাইরে রাখা হয়েছে।
শুধু মিসরই নয়, বিশ্বের আরও অনেক দেশ একই ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে। কোথাও অফিস সময় কমানো হচ্ছে, কোথাও দূর থেকে কাজের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে, আবার কোথাও জ্বালানি ব্যবহারে সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হতে পারে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় প্রভাব ফেলবে।
বর্তমান পরিস্থিতি স্পষ্ট করে দিচ্ছে, বৈশ্বিক জ্বালানি নির্ভরতা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে এবং ভবিষ্যতে বিকল্প জ্বালানির দিকে ঝোঁক বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা কতটা জরুরি।
















