ইসরায়েলের পার্লামেন্টে পাস হওয়া নতুন মৃত্যুদণ্ড আইনকে ঘিরে পশ্চিম তীরজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এই আইনে ‘সন্ত্রাসবাদে’ অভিযুক্ত ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
এই আইনের প্রতিবাদে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে সাধারণ ধর্মঘট পালিত হয়। রামাল্লাহ, নাবলুস ও হেবরনসহ বিভিন্ন শহরে মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করে।
একাধিক দেশ এই আইনকে বৈষম্যমূলক বলে আখ্যা দিয়েছে এবং সতর্ক করেছে যে এটি বৈষম্য ও দমননীতিকে আরও শক্তিশালী করবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও এটিকে পশ্চাদপসরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
একই সময়ে জেরুজালেমের পবিত্র স্থানগুলো ঘিরেও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। আল-আকসা মসজিদ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে মুসল্লিদের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে, ফলে মানুষ বাধ্য হয়ে আশপাশের সড়কে নামাজ আদায় করছে।
গাজা উপত্যকায়ও পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ হয়ে উঠছে। গত সপ্তাহজুড়ে ইসরায়েলি হামলা বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে বেসামরিক মানুষ, এমনকি শিশুরাও হতাহত হয়েছে।
বিভিন্ন হামলায় বহু মানুষ নিহত ও আহত হয়েছে। আবাসিক এলাকা, যানবাহন ও জনসমাগমস্থল লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ উঠেছে। শুধু একদিনেই কয়েকজন নিহত ও অনেকেই আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় শত শত মানুষ নিহত হয়েছে বলে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
মানবিক পরিস্থিতিও দ্রুত অবনতি ঘটছে। জ্বালানির অভাবে হাসপাতালগুলোতে জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। খাদ্য ও ত্রাণ সরবরাহ সীমিত থাকায় মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে।
পশ্চিম তীরেও সহিংসতা থেমে নেই। বসতি স্থাপনকারীদের হামলা, সামরিক অভিযান এবং চলাচলে বাধা অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন গ্রামে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন আইন, সামরিক অভিযান এবং মানবিক সংকট মিলিয়ে পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনাও ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে, যা দীর্ঘমেয়াদে আরও বড় সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
















