যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত ৩৯তম দিনে আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। নির্ধারিত সময়সীমার আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংসের হুমকি দিলেও তেহরান তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইরানের সামরিক বাহিনী ট্রাম্পের হুমকিকে ‘ভ্রান্ত’ বলে আখ্যা দিয়ে জানিয়েছে, এসব বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বলতা আড়াল করার চেষ্টা ছাড়া কিছু নয়।
ইরানের ভেতরে নতুন করে হামলা বেড়েছে। তেল স্থাপনা, বিমানবন্দর, রেলসেতু এবং আবাসিক এলাকায় একাধিক আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে। দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্র সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলাকে বড় ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তেহরান, আলবরজ এবং শাহরিয়ার এলাকায় হামলায় বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে, যার মধ্যে শিশুও রয়েছে। একই সঙ্গে একটি উপাসনালয়েও আঘাত হানার ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা ইরানের একাধিক বিমানবন্দর এবং সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে ইরান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে আঘাত হানছে।
কূটনৈতিক অচলাবস্থাও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত সাময়িক যুদ্ধবিরতি ইরান প্রত্যাখ্যান করেছে এবং স্থায়ী সমাধানের জন্য ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছে। এতে যুদ্ধের সম্পূর্ণ অবসান, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালীতে নতুন ব্যবস্থার দাবি জানানো হয়েছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এটি খুলে না দিলে হামলার হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা আন্তর্জাতিক আইনে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
উপসাগরীয় অঞ্চলেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত। সৌদি আরব, কুয়েত, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার বেশিরভাগই প্রতিহত করা হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংযোগও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
লেবাননে ইসরায়েলের অভিযান আরও বিস্তৃত হয়েছে এবং সেখানে ব্যাপক হতাহত ও বাস্তুচ্যুতি ঘটছে। ইরাকেও হামলার ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ড্রোন আঘাতে বেসামরিক প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত এখন পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়েছে এবং এতে জ্বালানি সরবরাহ, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে দ্রুত কোনো সমাধানের সম্ভাবনা অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।
















