২০২৬ সালের প্রথম দিন থেকেই মালয়েশিয়ার সব আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার এক ছাতার নিচে আনতে যাচ্ছে মালয়েশিয়া বর্ডার কন্ট্রোল এজেন্সি—একেপিএস। সংস্থাটি ধীরে ধীরে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব গ্রহণ করছে, যেন দেশটির সীমান্ত নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী ও সুশৃঙ্খল হয়।
একেপিএসের মহাপরিচালক দাতুক সেরি মোহদ শুহাইলি মোহদ জাইন জানিয়েছেন, সংস্থাটি বর্তমানে দ্বিতীয় ধাপের অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় রয়েছে, যেখানে আরও ১০৩টি প্রবেশদ্বার অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রথম ধাপ শেষ হয়েছে, যার আওতায় ২২টি প্রবেশদ্বার সম্পূর্ণভাবে একেপিএসের অধীনে এসেছে।
তিনি বলেন, প্রধান সচিব আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন একটি পূর্ণাঙ্গ কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে, যা শিগগিরই তার কাছে এবং সরকারি সেবার মহাপরিচালকের কাছে উপস্থাপন করা হবে। নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, সরকারি সেবা বিভাগ এবং পরিবহন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। সেখানে জনবল, কর্মপদ্ধতি ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
শুহাইলির কণ্ঠে ছিল আত্মবিশ্বাস, “আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, দ্বিতীয় ধাপ সফলভাবে শেষ করতে পারব এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারির মধ্যেই পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হবে।”
বিদেশি সীমান্ত সংস্থাগুলোর উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়া ও সিঙ্গাপুরের মতো দেশের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্থিতিশীল হতে প্রায় এক দশক লেগেছিল, অথচ একেপিএসের বয়স মাত্র এক বছর। তাই কাঠামো ও প্রক্রিয়া শক্তিশালী করতে সময় লাগবেই।
তিনি মালয়েশিয়ার নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান, সীমান্তে নিরাপত্তা ও প্রবেশ প্রক্রিয়ার সময় ধৈর্য ধরতে এবং দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের সহযোগিতা করতে। তার ভাষায়, “এটি জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মানের প্রতিফলন।”
কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ কয়েকটি প্রবেশদ্বারে অভিযোগের বিষয়ে শুহাইলি বলেন, এখন পর্যন্ত একেপিএস কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো গুরুতর অভিযোগ পাওয়া যায়নি। প্রতিটি অভিযোগ সিসিটিভি ফুটেজ ও সাক্ষ্যের মাধ্যমে যাচাই করা হয়, যেন ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়—অভিযোগকারী এবং দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের উভয়ের জন্যই।
ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে একেপিএস, গড়ে তুলছে নিরাপদ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা। সরকারের আস্থা স্পষ্ট—নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই মালয়েশিয়ার ১২৫টি আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার পুরোপুরি আসবে একেপিএসের নিয়ন্ত্রণে, এক নতুন অধ্যায় খুলে দেবে সীমান্ত নিরাপত্তার ইতিহাসে।
















