জাতিসংঘে বয়কটের রেশ না কাটতেই আবুধাবিতে আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী; নেপথ্যে ৭ অক্টোবরের নিরাপত্তা ব্যর্থতা ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের শঙ্কা।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিশ্বনেতাদের বয়কটের বিব্রতকর ঘটনা নিয়ে আঞ্চলিক রাজনীতির আলোচনা এখনো থামেনি। এরই মধ্যে আকস্মিকভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে গেছেন ইসরায়েলের বিতর্কিত প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। অত্যন্ত গোপনে উপসাগরীয় এই মুসলিম দেশটিতে তার আকস্মিক সফর মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
ইসরায়েলের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই সফরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। খবরে জানানো হয়, দীর্ঘ গোপনীয়তার পর্দা সরিয়ে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) আবুধাবিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মিলিত হয়েছেন নেতানিয়াহু।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বৈঠকের আলোচ্যসূচি সম্পর্কে দুই দেশের পররাষ্ট্র দপ্তরই এখন পর্যন্ত রহস্যজনক নীরবতা পালন করছে। তবে আকস্মিক এই সফরের উদ্দেশ্য কী এবং দুই নেতার গোপন আলোচনায় ঠিক কী ধরনের কৌশল বা পরিকল্পনা আঁটা হচ্ছে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, দেশের অভ্যন্তরীণ তীব্র রাজনৈতিক চাপ এবং ৭ অক্টোবরের নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যর্থতার দায়ভারই নেতানিয়াহুর এই ঝটিকা সফরের নেপথ্যে প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে।
সম্প্রতি ইসরায়েলি দৈনিক ‘হারেৎজ’-এর এক বিস্ফোরক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের সেই নজিরবিহীন হামলার প্রায় দেড় সপ্তাহ আগেই আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ সরাসরি নেতানিয়াহুকে সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী সেই আগাম সতর্কবার্তা দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা কিংবা সেনাবাহিনীর কাছে পৌঁছাতেই দেননি।
এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই নেতানিয়াহুর ক্ষমতা নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। যদিও তিনি ওই প্রতিবেদনকে ‘সম্পূর্ণ ভুয়া’ বলে দাবি করেছেন এবং পত্রিকাটির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন, তবুও বিরোধী দলগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার সুতোয় ঝুলছে।
কঠিন এক পুনর্নির্বাচনী লড়াইয়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এবং ফিলিস্তিন ইস্যু ও মধ্যপ্রাচ্যে কৌশলগত সমর্থন ধরে রাখতেই নেতানিয়াহু তড়িঘড়ি করে এই ‘মিশন আমিরাত’-এ গেছেন কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স























