গত বছরের আগস্টে দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া ২,২৪৭ জন বন্দির মধ্যে ৭১১ জন এখনো পলাতক রয়েছে। এই পলাতকদের মধ্যে ৬৭ জনই মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি, যাদের মধ্যে ১১ জন জঙ্গি বলে পুলিশ জানিয়েছে। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে পলাতক এই আসামিদের ধরতে দেশজুড়ে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
পালিয়ে যাওয়া উল্লেখযোগ্য আসামি
পলাতকদের মধ্যে রয়েছে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মুনতাসির আল জেমি। সে গত বছরের ৬ আগস্ট গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে আরও ২০৯ জন বন্দির সাথে পালিয়ে যায়। এছাড়া পলাতকদের মধ্যে বিডিআর বিদ্রোহ এবং অন্যান্য জঙ্গি মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরাও রয়েছে।
পরিসংখ্যান ও অস্ত্র উদ্ধার
কারা কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, গত বছরের ৫ আগস্টের পর নরসিংদী, শেরপুর, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া ও কাশিমপুর—এই পাঁচটি কারাগার থেকে মোট ২,২৪৭ জন বন্দি পালিয়েছিল। এর মধ্যে ১,৫১১ জন বন্দি ফিরে এসেছে বা পুনরায় গ্রেপ্তার হয়েছে।এদিকে, কারাগারগুলো থেকে লুট হওয়া ৯৪টি অস্ত্রের মধ্যে ৬৭টি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে এখনো প্রায় ৭ হাজার গুলির কোনো হদিস মেলেনি।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
পুলিশ সদরদপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) শাহাদাত হোসেন জানিয়েছেন, “গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে দেশব্যাপী অভিযান চলছে। নির্বাচন মাথায় রেখে আমাদের বিশেষ অভিযান চলমান আছে।”কারা অধিদপ্তরের এআইজি (প্রিজন্স) জান্নাত-উল-ফরহাদ বলেন, “নরসিংদী কারাগারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন ছিল, তবে বাকি কারাগারগুলোতে ঘটা ঘটনা আমরা খতিয়ে দেখছি।”
উল্লেখ্য, গত বছর জেল পালানোর চেষ্টার সময় মোট ১৬ জন বন্দি মারা গিয়েছিল এবং এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছয়টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
















