দ্বিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর রূপ দিতে একটি নতুন আইনের অনুমোদন দিয়েছে নিউজিল্যান্ড সরকার। মঙ্গলবার দেশটির পার্লামেন্টে বিলটি চূড়ান্তভাবে পাস হয় বলে আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা এএফপি এক প্রতিবেদনে তথ্য নিশ্চিত করেছে।
নতুন এই আইনি কাঠামোর আওতায় ভারতীয় বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিউজিল্যান্ডের প্রায় ৯৫ শতাংশ পণ্যের ওপর বিদ্যমান শুল্ক একবারে প্রত্যাহার করে নেবে নয়াদিল্লি। বিপরীতক্রমে, নিউজিল্যান্ডের অভ্যন্তরীণ বাজারে ভারতীয় সকল পণ্য শতভাগ শুল্কমুক্ত সুবিধায় কেনাবেচার সুযোগ পাবে। এর পাশাপাশি আগামী ১৫ বছরের মেয়াদে ভারতের বাণিজ্য খাতে মোট ২ হাজার কোটি মার্কিন ডলার (২০ বিলিয়ন ডলার) মূলধন বিনিয়োগের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ওয়েলিংটন।
এর আগে গত ২৭ এপ্রিল ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বহুল আলোচিত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা এফটিএ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেই চুক্তির বিধিসমূহকে বাস্তবে রূপ দিতেই নিউজিল্যান্ডের জাতীয় সংসদে বিলটি সংসদ সদস্যদের সম্মতির জন্য পেশ করা হয়। ভোটাভুটি শেষে দেখা যায়, বিলটির সমর্থনে ৯৩ জন এমপি তাদের রায় প্রদান করেছেন এবং বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন ২৯ জন। দেশের বিরোধী দল লেবার পার্টির একাধিক আইনপ্রণেতাও সরকারি প্রস্তাবের পক্ষে নিজেদের মত ব্যক্ত করেন।
সংবিধান অনুযায়ী নিউজিল্যান্ডের আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রপ্রধান যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লস। তবে রাজার অনুপস্থিতিতে তাঁর যাবতীয় প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব সম্পাদন করে থাকেন নির্ধারিত গভর্নর জেনারেল। সংসদে অনুমোদিত এই প্রস্তাবটি এখন নিয়ম অনুযায়ী গভর্নর জেনারেলের দপ্তরে পাঠানো হবে এবং তাঁর চূড়ান্ত অনুমোদনের পরই এটি পূর্ণাঙ্গ আইনে পরিণত হবে।
সংসদে বিল পাস হওয়ার পর বুধবার নিউজিল্যান্ডের বাণিজ্যমন্ত্রী টড ম্যাকক্লে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান, আইনটি কার্যকর হওয়া মাত্রই দেশটির রপ্তানিকারক সমাজ তাৎক্ষণিকভাবে এর ইতিবাচক সুফল পেতে শুরু করবেন। যৌথ অংশীদারত্বের চমৎকার এই বাণিজ্য চুক্তিটি চলতি বছরের মধ্যেই মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়িত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।























