রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর সেন্ট পিটার্সবার্গে বসেই এখন যুদ্ধের প্রভাব অনুভব করছেন বাসিন্দারা। ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় বাল্টিক উপকূলে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় আগুন লাগার পর বাতাসে ভেসে আসছে পোড়া জ্বালানি ও রাসায়নিকের গন্ধ।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেন রাশিয়ার প্রধান তেল টার্মিনাল ও শোধনাগারগুলোকে লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে উস্ত-লুগা ও প্রিমোরস্ক বন্দর বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, যেগুলো রাশিয়ার সামুদ্রিক তেল রপ্তানির বড় অংশ পরিচালনা করে।
দূরপাল্লার ড্রোন ব্যবহার করে এসব হামলা চালানো হচ্ছে, যা এক হাজার কিলোমিটারেরও বেশি পথ অতিক্রম করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে। এতে তেলের ট্যাংক ও অবকাঠামোতে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে এবং দীর্ঘসময় ধরে আগুন জ্বলছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, পোড়া তেলের গন্ধ কখনো ডিজেলের ধোঁয়ার মতো, আবার কখনো পোড়া প্লাস্টিকের মতো তীব্র হয়ে উঠছে। অনেকেই বলছেন, এই পরিস্থিতি তাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে যে যুদ্ধ এখন আর দূরের নয়, বরং তাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠছে।
এই হামলার ফলে রাশিয়ার তেল রপ্তানিতে বড় ধাক্কা লেগেছে। গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলো থেকে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিকল্প ছোট বন্দরের ওপর চাপ বেড়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনের লক্ষ্য শুধু সামরিক ক্ষতি করা নয়, বরং রাশিয়ার অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করা। বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার সুযোগ নিয়ে রাশিয়া যে অতিরিক্ত আয় করছিল, তা কমিয়ে আনার কৌশল হিসেবেই এই হামলা দেখা হচ্ছে।
একই সঙ্গে এই আক্রমণ কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে। ইউক্রেন ভবিষ্যতে জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বন্ধের মতো প্রস্তাব দিয়ে আলোচনায় সুবিধা নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে যুদ্ধের এই নতুন মাত্রা সাধারণ মানুষের জীবনে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে সংঘাতের প্রভাব আরও বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
















