ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট নিয়ে কাতারের আমিরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। শনিবার দোহায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এই সফরটি উপসাগরীয় অঞ্চলে মেলোনির ধারাবাহিক সফরের অংশ, যেখানে তিনি এর আগে সৌদি আরব সফর করেন এবং পরবর্তীতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাওয়ার কথা রয়েছে।
বৈঠকে উভয় নেতা জ্বালানি সরবরাহের ওপর যুদ্ধের প্রভাব এবং তা মোকাবিলার সম্ভাব্য উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। ইতালি জানিয়েছে, বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাতারের জ্বালানি অবকাঠামো পুনর্গঠনে সহায়তা করতে প্রস্তুত তারা।
ইরান হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করায় বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাস সরবরাহে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে, যা ইতালির মতো আমদানিনির্ভর দেশের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কাতারের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় উত্তেজনা কমানো এবং কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
দুই দেশ অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা করেছে।
ইরানের হামলায় কাতারের গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে, যা দেশটির রপ্তানি সক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান এই সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে এবং এর প্রভাব ইউরোপসহ বিভিন্ন অঞ্চলে পড়ছে।
উল্লেখ্য, যুদ্ধ শুরুর পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ন্যাটোর কোনো দেশের নেতা হিসেবে প্রথমবারের মতো এই অঞ্চলে সফর করলেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী।
সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে।
















