যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন হোয়াইট হাউসে প্রস্তাবিত বলরুম নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য আদালতে জরুরি আবেদন করেছে। তাদের দাবি, নির্মাণ বন্ধ থাকলে জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
শুক্রবার ট্রাম্প প্রশাসন ও ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের আইনজীবীরা আদালতের নির্মাণ স্থগিতের সিদ্ধান্তকে অপ্রত্যাশিত ও অযৌক্তিক বলে উল্লেখ করেন। তারা বলেন, হোয়াইট হাউসের পাশে বিশাল খননকাজ চলমান অবস্থায় রেখে দেওয়া নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করছে।
আবেদনে বলা হয়, প্রকল্পের অংশ হিসেবে উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যার মধ্যে ড্রোন প্রতিরোধী ছাদ ও বুলেট এবং বিস্ফোরণ সহনশীল কাচ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। তাই দ্রুত কাজ চালু করা জরুরি বলে দাবি করা হয়।
এর আগে ৩১ মার্চ বিচারক রিচার্ড লিওন নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে বন্ধের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, এত বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন।
ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে হোয়াইট হাউসে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করে আসছিলেন। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি বলরুম নির্মাণসহ বিভিন্ন সংস্কার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। এর অংশ হিসেবে ঐতিহাসিক ইস্ট উইং ভেঙে ফেলা হয়, যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়।
ইতিহাসবিদ, স্থপতি ও সংরক্ষণকর্মীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এসব পরিবর্তনের ফলে হোয়াইট হাউসের ঐতিহ্যগত স্থাপত্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। পরে একটি সংরক্ষণ সংস্থা আদালতে মামলা করে নির্মাণ বন্ধের দাবি জানায়।
বিচারক লিওন তার রায়ে বলেন, প্রেসিডেন্ট হোয়াইট হাউসের তত্ত্বাবধায়ক হলেও মালিক নন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে আইন লঙ্ঘন করা গ্রহণযোগ্য নয়।
তবে তিনি সীমিত আকারে কিছু নির্মাণকাজ চালানোর অনুমতি দেন, যাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ নির্মাণের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়ার নির্দেশ দেন।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে এবং বলছে, অতীতের প্রেসিডেন্টদের মতো তারাও হোয়াইট হাউসে পরিবর্তন আনার ক্ষমতা রাখে।
বর্তমানে প্রকল্পটির ব্যয় প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে এবং এটি ব্যক্তিগত অনুদানের মাধ্যমে বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। তবে এই অর্থায়ন নিয়েও সমালোচনা রয়েছে, কারণ এতে প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সব মিলিয়ে, হোয়াইট হাউস বলরুম নির্মাণ নিয়ে আইনি লড়াই ও রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র আকার ধারণ করছে।
















