ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হলেও চীন এখনো পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে সামাল দিতে পারছে। এর পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে দেশটির ছোট স্বাধীন তেল শোধনাগারগুলো, যেগুলোকে টিপট রিফাইনারি বলা হয়।
হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বেড়ে গেছে এবং অনেক দেশ অর্থনৈতিক চাপে পড়েছে। তবে চীন আগেই প্রস্তুতি নেওয়ায় এই সংকটের প্রভাব কিছুটা কমিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
চীন মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। বিশেষ করে ইরান থেকে বড় পরিমাণ তেল আমদানি করে দেশটি। যুদ্ধ শুরুর আগেই সস্তা তেল কিনে মজুত করায় এখন সেই মজুদ কাজে লাগছে।
টিপট রিফাইনারিগুলো মূলত ছোট ও বেসরকারি শোধনাগার, যেগুলো তুলনামূলক কম দামে তেল কিনে থাকে। এসব প্রতিষ্ঠান বড় রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির মতো কঠোর নিয়মের মধ্যে পড়ে না, ফলে তারা ঝুঁকি নিয়ে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও তেল সংগ্রহ করতে পারে।
এই রিফাইনারিগুলো আগে থেকেই তেল মজুত করে রেখেছিল। তাই যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরও তারা উৎপাদন চালিয়ে যেতে পারছে এবং সরবরাহ বজায় রাখতে সহায়তা করছে।
এছাড়া চীন গোপন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে তেল আমদানি চালিয়ে যাচ্ছে। পুরনো তেলবাহী জাহাজ ব্যবহার করে বিভিন্ন কৌশলে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল আনা হচ্ছে।
চীন শুধু এই ছোট রিফাইনারির ওপর নির্ভর করছে না। দেশটি একাধিক কৌশল গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে আগাম তেল মজুত, বিকল্প উৎস থেকে আমদানি এবং প্রয়োজন হলে নিজস্ব কৌশলগত মজুদ ব্যবহার করা।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের কাছে বিপুল পরিমাণ তেল মজুদ রয়েছে, যা কয়েক মাসের চাহিদা মেটাতে সক্ষম। এই মজুদ দেশটিকে সাময়িক স্বস্তি দিচ্ছে।
তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয়। তেলের দাম বেশি হলে এসব ছোট রিফাইনারির লাভ কমে যায়, ফলে তারা আমদানি কমাতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নেওয়ার ফলে চীন একটি নমনীয় জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। তবে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে ভবিষ্যতে দেশটির ওপরও চাপ বাড়তে পারে।
















