দীর্ঘ কয়েক মাসের সীমান্ত সংঘাতের পর উত্তেজনা কমাতে চীনের মধ্যস্থতায় আলোচনায় বসেছে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। দুই দেশের প্রতিনিধিরা চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় উরুমকি শহরে এই বৈঠক করছেন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই আলোচনা মূলত যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘর্ষকে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় উত্তেজনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
গত অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে উভয় পক্ষেই বহু মানুষের প্রাণহানি হয়েছে এবং সীমান্ত বাণিজ্য ও যাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
পাকিস্তান অভিযোগ করছে, আফগানিস্তানের মাটিতে অবস্থান করা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো তাদের দেশে হামলা চালাচ্ছে। বিশেষ করে পাকিস্তানি তালেবান নামে পরিচিত গোষ্ঠীর কার্যক্রম নিয়ে ইসলামাবাদ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
তবে আফগানিস্তান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, এটি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা এবং তাদের ওপর দায় চাপানো ঠিক নয়।
পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা একটি স্থায়ী সমাধান চায়, তবে এর জন্য আফগানিস্তানকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে।
অন্যদিকে আফগান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা প্রতিবেশী সম্পর্ক উন্নয়ন, বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা সমস্যা সমাধানে গঠনমূলক আলোচনা করতে আগ্রহী।
চীন, যা দুই দেশেরই প্রতিবেশী, দীর্ঘদিন ধরে এই বিরোধ মেটাতে মধ্যস্থতা করে আসছে। গত মাসেও তারা বিশেষ দূত নিয়োগ করেছিল আলোচনার জন্য।
এর আগে সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের অনুরোধে দুই দেশ সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল, তবে তা শেষ হওয়ার পর আবারও বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ শুরু হয়েছে।
সর্বশেষ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় গোলাবর্ষণে বেসামরিক হতাহতের অভিযোগ উঠেছে, যদিও পাকিস্তান তা অস্বীকার করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই আলোচনা সফল হলে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে, তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য দুই পক্ষের আস্থার ঘাটতি দূর করা জরুরি।
















