ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে পাকিস্তান হঠাৎ করেই জ্বালানি সংকটের মুখে পড়েছে। কয়েক মাস আগেও যেখানে অতিরিক্ত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি মজুদ ছিল, এখন সেখানে সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর আগে পাকিস্তানে এলএনজির চাহিদা কমে গিয়েছিল। সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ায় বিদ্যুতের জন্য গ্যাসের প্রয়োজন কমে যায়, ফলে অতিরিক্ত গ্যাস অন্য দেশে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছিল সরকার।
কিন্তু ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায় এবং কাতারের বড় গ্যাস স্থাপনায় হামলার ফলে উৎপাদন ব্যাহত হয়।
কাতার, যা পাকিস্তানের প্রধান এলএনজি সরবরাহকারী, উৎপাদন কমিয়ে দেয় এবং সরবরাহ চুক্তি স্থগিত করে। ফলে পাকিস্তানে গ্যাস আসা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যেখানে প্রতি মাসে আট থেকে ১২টি এলএনজি চালান আসত, সেখানে মার্চ মাসে মাত্র দুটি চালান পৌঁছেছে। এপ্রিল মাসেও সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম।
এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দামও বেড়ে গেছে, ফলে নতুন করে গ্যাস আমদানি করা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
পাকিস্তানের বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এলএনজির ওপর নির্ভরশীল। তাই সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ খাতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।
সরকার এখন বিকল্প হিসেবে অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এছাড়া কয়লা ও জলবিদ্যুৎ ব্যবহারের দিকেও ঝুঁকছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, এসব ব্যবস্থা দিয়েও পুরো ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে না। গ্রীষ্মকালে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়লে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
এ কারণে দেশে প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা লোডশেডিং, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের মতো পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি কঠোর চুক্তি ও পরিকল্পনার ঘাটতির কারণে পাকিস্তানের জ্বালানি খাত এখন বড় ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
সামগ্রিকভাবে, যুদ্ধের প্রভাব শুধু সীমান্তেই সীমাবদ্ধ নেই—এটি পাকিস্তানের মতো দেশগুলোর অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তাকেও সরাসরি প্রভাবিত করছে।
















