যুক্তরাষ্ট্রে যৌন নির্যাতন কেলেঙ্কারিতে দোষী সাব্যস্ত ধনকুবের জেফ্রি এপস্টিনকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে একটি বড় আর্থিক সমঝোতা। ব্যাংক অব আমেরিকার সঙ্গে হওয়া ৭২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের এই চুক্তির আওতায় সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের খুঁজছেন আইনজীবীরা।
আইনজীবীদের ধারণা, অন্তত ৬০ থেকে ৭৫ জন নারী এই সমঝোতার আওতায় ক্ষতিপূরণ পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন। তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মামলাটি শুরু হয় এক নারী বাদীর মাধ্যমে, যিনি নিজের পরিচয় গোপন রেখে অভিযোগ করেন যে ব্যাংক অব আমেরিকা এপস্টিনের সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও তা উপেক্ষা করেছে। অভিযোগে বলা হয়, এসব লেনদেন যৌন পাচার কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল।
মার্কিন ফেডারেল আদালতের বিচারক জেড রাকফ এই সমঝোতার প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, যেন সম্ভাব্য সব ভুক্তভোগীর কাছে এই তথ্য পৌঁছানো হয়, যাতে কেউ বাদ না পড়ে।
তবে ব্যাংক অব আমেরিকা আবারও দাবি করেছে, তারা কোনোভাবেই এপস্টিনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সহায়তা করেনি। তাদের মতে, এই সমঝোতা শুধু বিষয়টির সমাপ্তি টানার জন্য করা হয়েছে।
এই চুক্তি এপস্টিন সংশ্লিষ্ট তৃতীয় বড় ব্যাংক সমঝোতা। এর আগে জেপি মরগান এবং ডয়েচে ব্যাংকও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছায়।
বিচারক রাকফ বলেন, এপস্টিনের অপরাধ এত গুরুতর যে কোনো অর্থমূল্যই ভুক্তভোগীদের ক্ষতি পূরণ করতে পারে না। তবে যারা এই অপরাধে সহায়তা করেছে বা অবহেলা করেছে, তাদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার ভুক্তভোগীদের রয়েছে।
উল্লেখ্য, জেফ্রি এপস্টিন বহু বছর ধরে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে ও তরুণীদের যৌন নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে তার মৃত্যু হয়, যা আত্মহত্যা হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
সমালোচকদের মতে, তার প্রভাবশালী যোগাযোগের কারণে দীর্ঘদিন ধরে তিনি আইনের আওতার বাইরে থাকতে পেরেছিলেন।
বর্তমানে এই সমঝোতা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—কারা এপস্টিনের অপরাধকে সম্ভব করে তুলেছিল এবং সেই দায় কতটা বিস্তৃত।
















