ইস্টারের সময় নরওয়েতে গেলে রাস্তাঘাট অস্বাভাবিকভাবে ফাঁকা মনে হতে পারে। কারণ এই সময় দেশটির মানুষের এক বিশেষ অভ্যাস হলো নির্জন কেবিনে গিয়ে রহস্য-রোমাঞ্চ গল্পে ডুবে থাকা।
এই ঐতিহ্যের শুরু প্রায় একশ বছর আগে। একটি জনপ্রিয় উপন্যাস প্রকাশের সময় সেটিকে এমনভাবে প্রচার করা হয় যে মানুষ সেটিকে বাস্তব ঘটনা ভেবে আগ্রহী হয়ে ওঠে। সেখান থেকেই ইস্টারের সঙ্গে অপরাধভিত্তিক গল্পের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
বর্তমানে এই সময়টিকে বলা হয় ‘পস্কেক্রিম’, যেখানে রহস্য, খুন, গোয়েন্দা কাহিনি এবং সত্য ঘটনার ওপর ভিত্তি করে লেখা বই ও অনুষ্ঠান বিশেষভাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
ইস্টারের আগে থেকেই দেশজুড়ে বইয়ের দোকান ও গ্রন্থাগারে অপরাধভিত্তিক বইয়ের প্রদর্শনী দেখা যায়। এমনকি বিভিন্ন জায়গায় এই থিমে সাজসজ্জাও করা হয়।
এই সময় নরওয়ের অনেক মানুষ শহর ছেড়ে পাহাড়ি কেবিনে চলে যান এবং পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে বসে বই পড়া বা ধারাবাহিক দেখা উপভোগ করেন। শিশু থেকে শুরু করে বড় সবাই এতে অংশ নেয়।
দেশটিতে প্রতিবছর এই উপলক্ষে বড় ধরনের সাহিত্য উৎসবও অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে লেখক ও পাঠকের মিলনমেলা ঘটে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নরওয়ের প্রকৃতি, দীর্ঘ শীতকাল এবং মানুষের স্বভাবগত অন্তর্মুখী মনোভাব এই ধরনের গল্পের জনপ্রিয়তায় ভূমিকা রেখেছে।
যদিও দেশটি বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ দেশ হিসেবে পরিচিত, তবুও এই অপরাধভিত্তিক গল্পের প্রতি আগ্রহ কমেনি। বরং সময়ের সঙ্গে এটি নরওয়ের সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
এখন এই ঐতিহ্য শুধু নরওয়েতেই সীমাবদ্ধ নয়, বিশ্বের বিভিন্ন জায়গার মানুষও ইস্টারের সময় একইভাবে রহস্য-রোমাঞ্চ উপভোগ করতে শুরু করেছে।
















