মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনায় পাকিস্তানের সক্রিয় কূটনৈতিক ভূমিকা নিয়ে নয়াদিল্লিতে আলোচনা বাড়ছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এই প্রক্রিয়ায় ভারত কি পিছিয়ে পড়ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামাবাদ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে নিজেকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। জানা গেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের একটি শান্তি প্রস্তাব ইরানের কাছে পৌঁছে দিয়েছে এবং আলোচনার আয়োজনের প্রস্তাবও দিয়েছে, যদিও তেহরান তা গ্রহণ করেনি।
এছাড়া পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী চীনে গিয়ে পাঁচ দফা শান্তি পরিকল্পনার জন্য সমর্থন চেয়েছেন, যা দেশটির কূটনৈতিক সক্রিয়তাকে আরও স্পষ্ট করেছে।
এ অবস্থায় ভারতের জন্য পরিস্থিতি কিছুটা অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের সময়ে পাকিস্তানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের যোগাযোগ বাড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভারতের ভেতরে এ নিয়ে ভিন্নমত দেখা যাচ্ছে। বিরোধী দল ও কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, দিল্লিরও মধ্যস্থতার চেষ্টা করা উচিত ছিল, নাহলে বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দেশটি অনুপস্থিত বলে মনে হতে পারে।
অন্যদিকে সরকারপক্ষ মনে করে, আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ বা কার্যকর প্রভাব ছাড়া মধ্যস্থতার চেষ্টা ফলপ্রসূ নাও হতে পারে। তাদের মতে, ভারতের জন্য নীরব কূটনীতি এবং কৌশলগত দূরত্ব বজায় রাখা বেশি উপযোগী।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর পাকিস্তানের ভূমিকাকে ‘দালালি’ বলে মন্তব্য করেছেন এবং বলেছেন, ভারত এ ধরনের ভূমিকা খোঁজে না।
তবে কিছু বিশ্লেষকের মতে, এই বিতর্ক মূলত কৌশলের চেয়ে মানসিক প্রতিক্রিয়ার বিষয়। তারা বলছেন, পাকিস্তানের সক্রিয়তা ভারতের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাস্তবে ভারত কখনোই এই মধ্যস্থতার দৌড়ে ছিল না এবং আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ ছাড়া এতে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও কম।
অন্যদিকে পাকিস্তানের এই কূটনৈতিক তৎপরতার পেছনে বাস্তব কারণও রয়েছে। ইরানের সঙ্গে সীমান্ত এবং মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার কারণে দেশটি এই সংকটে সরাসরি প্রভাবিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত আরও বাড়লে পাকিস্তানকে সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে হতে পারে, তাই তারা উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছে।
তবে ভারতের জন্য বড় প্রশ্ন হলো, তারা কী ভূমিকা নেবে। অনেকের মতে, সরাসরি মধ্যস্থতার বদলে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি উদ্যোগ, নিরাপত্তা সমন্বয় এবং কৌশলগত সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান নিয়ে ভারতের প্রত্যাশা বেড়েছে, তবে সব সংকটে সক্রিয় হওয়া সম্ভব নয়।
তাদের মতে, ভারতের মূল চ্যালেঞ্জ হলো সক্ষমতা ও প্রত্যাশার মধ্যে ভারসাম্য রাখা এবং কোন ক্ষেত্রে এগোতে হবে আর কোথায় সংযত থাকতে হবে—সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া।
















