ইসরায়েলের নতুন মৃত্যুদণ্ড আইনকে কেন্দ্র করে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ব্যাপক বিক্ষোভ ও ধর্মঘট পালিত হয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের দল ফাতাহর ডাকে এই কর্মসূচিতে দোকানপাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়।
বিক্ষোভে অংশগ্রহণ
বুধবার রামাল্লায় শত শত মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করে। তারা স্লোগান দেয় এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এই আইন বাতিলের আহ্বান জানায়। নাবলুসসহ বিভিন্ন শহরেও একই ধরনের প্রতিবাদ দেখা যায়।
ধর্মঘটের প্রভাব
রামাল্লা, হেবরন ও নাবলুসের অধিকাংশ দোকান বন্ধ ছিল। তবে জেরুজালেমের কাছে আনাতা এলাকায় ধর্মঘটে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীদের জোর করে দোকান খুলতে বাধ্য করে ইসরায়েলি সেনারা।
আইন নিয়ে উদ্বেগ
নতুন আইনে পশ্চিম তীরে সামরিক আদালতে দোষী সাব্যস্ত ফিলিস্তিনিদের জন্য মৃত্যুদণ্ডকে কার্যত বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সমালোচকদের মতে, এটি ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলিদের জন্য আলাদা বিচারব্যবস্থা তৈরি করছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান এই আইনকে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
মানবাধিকার পরিস্থিতি
বর্তমানে ৯ হাজার ৫০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি ইসরায়েলের কারাগারে বন্দি, যাদের মধ্যে শিশু ও নারীও রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, বন্দিদের ওপর নির্যাতন, খাদ্য সংকট ও চিকিৎসা অবহেলার ঘটনা ঘটছে।
সংঘর্ষের পরিস্থিতি
বিক্ষোভের সময় কিছু স্থানে উত্তেজনা দেখা দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, নিরাপত্তা বাহিনী রাবার বুলেট, টিয়ার গ্যাস ও স্টান গ্রেনেড ব্যবহার করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই আইনকে কেন্দ্র করে পশ্চিম তীরে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে এবং ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকট নতুন মাত্রা পেতে পারে।
















