জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপির উদ্দেশে হাসনাত
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ কঠোর ভাষায় বিএনপিকে আক্রমণ করে বলেছেন, একটি দল প্রথমে ‘জুলাই সনদে’ স্বাক্ষর করেও এখন তার বিপরীত অবস্থান নিয়েছে। তিনি বিএনপির এই দ্বিচারিতাকে ‘বিয়ে করার পর কাবিননামায় স্বাক্ষর দিয়েও সংসার করতে না চাওয়া’র সঙ্গে তুলনা করেছেন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কুমিল্লার লাকসাম সদরের বাইপাস এলাকায় এনসিপি আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
‘কবুল যেহেতু বলেছেন, সংসারও করতে হবে’
জুলাই সনদের মৌলিক বিষয়ের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া দলটির কঠোর সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, একটি রাজনৈতিক দল জুলাই সনদে আমাদের মৌলিক বিষয়ের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তারা প্রথমে স্বাক্ষর করে, আজ আবার সেই স্বাক্ষরের বিপক্ষেই অবস্থান নিয়েছে।”
তিনি ব্যঙ্গাত্মক সুরে প্রশ্ন তোলেন, “তাহলে আমরা বলব বিয়েই যেহেতু করবেন না, তাহলে কাবিননামায় স্বাক্ষর কেন করলেন? সংসার যদি না-ই করবা, তাহলে কবুল কেন বললা। কবুল যেহেতু বলেছেন, কাবিনে যেহেতু স্বাক্ষরও করেছেন, আপনাদের সংসারও করতে হবে।”
এনসিপি নেতা আরও হুঁশিয়ারি দেন, যদি তারা সংসার (স্বাক্ষরিত সনদের প্রতি অঙ্গীকার) না করতে চায়, তবে জনগণের সামনে এসে “ডিভোর্স দিতে চাই” ঘোষণা দিয়ে নিজেদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে।
যারা ‘না’ বলবে, তারাই ভোটের অধিকার কেড়ে নেবে
হাসনাত আবদুল্লাহ জনগণকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যারা জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সংস্কারের বিপক্ষে ‘না’-এর পক্ষে দাঁড়িয়েছে, তারাই আবার জনগণের কথা বলার অধিকার, ভোটের অধিকার কেড়ে নেবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এ সংস্কারের বিপক্ষে যারা ‘না’-এর অবস্থান নিয়েছে, তাদের আপনারা চিহ্নিত করে রাখুন। তারাই আবার তত্ত্বাবধায়কের বিপক্ষে ও আপনার ভোট এবং মৌলিক অধিকারের বিপক্ষেই অবস্থান নেবে।” তিনি জাতিকে এই বিষয়ে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।
এর আগে পথসভাটির আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় ফিতা কেটে লাকসাম উপজেলা এনসিপির কার্যালয় উদ্বোধনের মাধ্যমে।
এনসিপির লাকসাম উপজেলা প্রধান সমন্বয়ক আল মাহমুদ (ফজলে রাব্বী)-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই পথসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক (কুমিল্লা অঞ্চল তত্ত্বাবধায়ক) নাভিদ নওরোজ শাহ। এছাড়াও বক্তব্য দেন জুলাই আন্দোলনের শহীদ লাকসামের জিসানের নানা জাবেদ মিয়া, এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক সালাউদ্দিন জাবের এবং লাকসাম উপজেলা সমন্বয়ক আরিফুল ইসলাম। সভা শেষে লাকসাম সদরে জনমত গঠনে প্রচারপত্র বিতরণ করা হয়।














