অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতকারীদের হামলায় বাড়িঘর ও যানবাহনে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা জানায়, জেনিনের দক্ষিণে আল-ফানদাকুমিয়া গ্রাম ও সিলাত আল-দাহর শহরে শনিবার গভীর রাতে বসতকারীরা হামলা চালায়।
আল-ফানদাকুমিয়ায় বসতকারীরা বাড়িঘর ও যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং জানালা ভেঙে আরও কয়েকটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত করে। স্থানীয় বাসিন্দারা আগুন নেভানোর চেষ্টা করলে তাদের বাধার মুখে পড়তে হয়।
সিলাত আল-দাহরে কয়েকটি বাড়িতে আগুন ধরানোর চেষ্টা করা হয় এবং এক বাসিন্দাকে মারধর করে আহত করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, বাড়ির ভেতরে আগুন জ্বলছে এবং বাসিন্দারা মরিয়া হয়ে তা নেভানোর চেষ্টা করছেন।
এছাড়া হেবরনের দক্ষিণে মাসাফের ইয়াত্তা এলাকায় বসতকারীদের হামলায় আরও দুই ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। ওই সময় ইসরায়েলি বাহিনীর উপস্থিতিতে বসতকারীরা এলাকায় ঢুকে পড়ে এবং তিনজনকে আটক করা হয় বলে জানানো হয়েছে।
ঈদুল ফিতরের সময় এই হামলার ঘটনাগুলো ঘটেছে, যা চলমান সহিংসতার ধারাবাহিকতার অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।
নাবলুসের দক্ষিণে কারিউত ও জলুদ গ্রামেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। জলুদে একটি গাড়ি সম্পূর্ণ পুড়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে।
পশ্চিম তীরের আরও বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। সালফিতের কাছে হারিস এলাকায় বসতকারীরা সড়কে দাঁড়িয়ে ফিলিস্তিনি গাড়িতে পাথর নিক্ষেপ করে। রামাল্লার কাছেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে।
বেথলেহেমের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলেও অনুরূপ হামলার খবর পাওয়া গেছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের পর থেকে পশ্চিম তীরে এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, বসতকারীদের এসব হামলায় কার্যত কোনো জবাবদিহিতা নেই এবং অনেক ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের নীরব সমর্থন রয়েছে।
অন্যদিকে, তুলকারেমের দক্ষিণে একটি চেকপয়েন্টের কাছে গুলিতে আরও দুই ফিলিস্তিনি আহত হওয়ার খবর জানানো হয়েছে।
















