বিশ্বের নানা প্রান্তে ভ্রমণপিপাসুদের মধ্যে নতুন এক প্রবণতা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। লেজের মতো বিশেষ পোশাক পরে পানিতে সাঁতার কাটাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে জলপরী সাঁতার নামের এক অভিনব ধারা। কল্পকাহিনি নির্ভর ভ্রমণের জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ প্রবণতাও আলোচনায় এসেছে।
অংশগ্রহণকারীরা জানান, এটি শুধু বিনোদন নয়, বরং ব্যস্ত জীবনের চাপ থেকে মুক্তির একটি উপায়। পানির নিচে ধীরে ভেসে থাকা, শ্বাস ধরে সাঁতার কাটা এবং প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটানো অনেকের কাছে মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যকে অনেকেই এ ধারার কেন্দ্রস্থল মনে করেন। স্বচ্ছ ঝরনা ও উষ্ণ পানির জন্য পরিচিত এ অঞ্চলে সারা বছরই প্রশিক্ষণ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। নতুনদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে পানির নিচে নিরাপদে চলাফেরা, শ্বাস নিয়ন্ত্রণ এবং দলগত সাঁতারের কৌশল শেখানো হয়।
ভারত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপেও এ অভিজ্ঞতা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। উষ্ণ সমুদ্র, প্রবালপ্রাচীর এবং বিচিত্র সামুদ্রিক প্রাণীর উপস্থিতি অংশগ্রহণকারীদের আকৃষ্ট করছে। বিভিন্ন অবকাশকেন্দ্রে প্রাথমিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রয়েছে।
ইংল্যান্ডের কর্নওয়াল উপকূল প্রাচীন লোককথার জন্য পরিচিত। প্রাকৃতিক শিলাঘেরা জলাধারে নিরাপদ পরিবেশে অনুশীলন ও আলোকচিত্রের সুযোগ পাওয়া যায়। স্থানীয় কিংবদন্তি এই অভিজ্ঞতাকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলের নিকটবর্তী ক্যাটালিনা দ্বীপেও সাগরতলের শৈবালবনে সাঁতার কাটার আয়োজন রয়েছে। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, এটি যেন পানির নিচে বনভ্রমণের মতো অনুভূতি দেয়। নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও মিলনমেলার মাধ্যমে গড়ে উঠছে একটি সক্রিয় সম্প্রদায়।
তাইওয়ানের তাইচুং শহরের একটি গভীর পানির প্রশিক্ষণকেন্দ্রও আগ্রহীদের আকর্ষণ করছে। নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে সাঁতার ও আলোকচিত্রের সুবিধা থাকায় সমুদ্রের অনিশ্চয়তা ছাড়াই অভিজ্ঞতা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
মেক্সিকোর লা পাজ উপকূলেও বিশেষ ব্যবস্থায় সাগরজীবের সঙ্গে সাঁতার কাটার আয়োজন রয়েছে। নির্ধারিত নিয়ম মেনে প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে অংশ নিতে হয়। শান্ত উপসাগর নতুনদের জন্য উপযোগী বলে জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের সাঁতারে অংশ নেওয়ার আগে পানিতে স্বাচ্ছন্দ্য থাকা জরুরি। প্রশিক্ষিত সঙ্গীর সঙ্গে নামা, পরিবেশ রক্ষায় সচেতন থাকা এবং নিরাপত্তা বিধি মেনে চলার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
আয়োজকদের মতে, বয়স বা গড়ন নির্বিশেষে সবাই এতে অংশ নিতে পারেন। শরীর-ইতিবাচক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক এ উদ্যোগ অনেকের কাছে আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর একটি মাধ্যম হিসেবেও কাজ করছে। কল্পনার জগতে ডুব দিয়ে বাস্তব জীবনের চাপ কিছু সময়ের জন্য ভুলে থাকার সুযোগ দিচ্ছে জলপরী সাঁতার।
















