ইরানে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর সবচেয়ে বড় সাংবিধানিক প্রশ্ন উঠেছে—প্রেসিডেন্ট কি কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়াই এ ধরনের সামরিক অভিযান চালাতে পারেন?
সংবিধান কী বলে?
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। তবে সংবিধান প্রেসিডেন্টকে সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবেও বিস্তৃত ক্ষমতা দিয়েছে। এই “ধূসর এলাকা” দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কের বিষয়।
বাস্তবে কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা খুব কমই করেছে। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে প্রেসিডেন্টরা কংগ্রেসের পূর্ণ অনুমোদন ছাড়াই সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছেন, যুক্তি হিসেবে দেখিয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা ও জরুরি পরিস্থিতি।
ইরান হামলার ক্ষেত্রে কী হয়েছে?
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভিডিও বার্তায় ইরানে হামলাকে “বড় ধরনের সামরিক অভিযান” বলে উল্লেখ করেন। তবে কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা করেনি।
হাউস স্পিকার মাইক জনসন জানান, কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে গঠিত দ্বিদলীয় একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে (যা সাধারণত “গ্যাং অব এইট” নামে পরিচিত) হামলার আগে অবহিত করা হয়েছিল।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
প্রতিক্রিয়া দলীয় বিভাজন অনুসারেই এসেছে।
- রিপাবলিকানদের বেশিরভাগই হামলার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
- ডেমোক্র্যাটদের বড় অংশ অভিযোগ করেছে, প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই যুদ্ধ শুরু করেছেন।
ডেমোক্র্যাটরা আবারও “যুদ্ধক্ষমতা প্রস্তাব” উত্থাপনের দাবি তুলেছে, যা পাস হলে প্রেসিডেন্টের একতরফা সামরিক শক্তি ব্যবহারে সীমা আরোপ করতে পারে। তবে বর্তমান রাজনৈতিক ভারসাম্যে এমন প্রস্তাব পাস হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে ধারণা করা হচ্ছে। অল্প কয়েকজন রিপাবলিকান সদস্য—যেমন টমাস ম্যাসি ও র্যান্ড পল—এই বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র কেন হামলা চালাল?
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে “রক্তপাত ও সন্ত্রাস” চালিয়ে আসছে। তিনি অভিযোগ করেন, তেহরান পারমাণবিক কর্মসূচি ত্যাগের সুযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে।
তিনি ১৯৭৯ সালে তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস দখল এবং ১৯৮৩ সালে বৈরুতে মার্কিন ব্যারাকে হামলার ঘটনাও উল্লেখ করেন।
তবে এখন পর্যন্ত ইরান যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি আসন্ন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল—এমন কোনো প্রকাশ্য প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।
স্থলযুদ্ধের সম্ভাবনা?
এ মুহূর্তে ইরানে মার্কিন স্থলবাহিনী মোতায়েনের কোনো ইঙ্গিত নেই। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে পূর্ণমাত্রার স্থলযুদ্ধের প্রতি জনসমর্থন সীমিত।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১৩টি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এবং সাধারণত ৩০ থেকে ৪০ হাজার সেনা মোতায়েন থাকে। অঞ্চলে দুটি বিমানবাহী রণতরীও অবস্থান করছে।
আইনগতভাবে প্রেসিডেন্টের সামরিক ক্ষমতা বিস্তৃত হলেও, যুদ্ধ ঘোষণার সাংবিধানিক ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। ইরান হামলা সেই দীর্ঘদিনের বিতর্ককে আবার সামনে এনেছে—জাতীয় নিরাপত্তার জরুরি যুক্তি বনাম গণতান্ত্রিক অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা।
পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে কংগ্রেসের ভূমিকা ও ক্ষমতার প্রশ্ন আরও তীব্র হয়ে উঠতে পারে।
















