১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে কি না—এ বিষয়ে সোমবার থেকে গণপরামর্শ শুরু হচ্ছে। সরকার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কিশোর-কিশোরী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের মতামত চেয়েছে।
গত বছর অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের নিচে শিশুদের জন্য ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট, ইউটিউব ও টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মে নিষেধাজ্ঞা জারি করার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। চলতি বছর স্পেনও একই পথে হাঁটার আগ্রহ জানিয়েছে।
প্রযুক্তি বিষয়ক সচিব লিজ কেন্ডাল বলেন, দ্রুত প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের যুগে তরুণরা কীভাবে নিরাপদ ও সৃজনশীলভাবে বেড়ে উঠতে পারে—তা নির্ধারণে এই পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কী কী বিষয়ে মতামত চাওয়া হচ্ছে?
সরকার কেবল পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা নয়, বিকল্প ব্যবস্থাগুলোর ওপরও মতামত জানতে চায়। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে—
- প্ল্যাটফর্মগুলোকে আসক্তিকর বৈশিষ্ট্য, যেমন অবিরাম স্ক্রল বা স্বয়ংক্রিয় ভিডিও চালু রাখা বন্ধ করতে বাধ্য করা
- শিশুদের ঘুমের উন্নতির জন্য বাধ্যতামূলক রাতের কারফিউ চালু করা
- শিশুদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা
- বয়স যাচাই প্রক্রিয়া আরও কঠোর করা
সরকার জানিয়েছে, কিছু প্রস্তাব বাস্তব পরিবেশে পরীক্ষামূলকভাবে চালিয়ে কার্যকারিতা যাচাই করা হবে।
রাজনৈতিক অবস্থান
পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ ইতোমধ্যে ১৬ বছরের নিচে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার পক্ষে ভোট দিয়েছে। বিভিন্ন দলের বহু সংসদ সদস্য এ নীতিকে সমর্থন জানিয়েছেন।
তবে সব মহল একমত নয়। কিছু বিশেষজ্ঞ ও শিশু অধিকার সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা অনাকাঙ্ক্ষিত ফল বয়ে আনতে পারে। তাদের মতে, এতে শিশুদের অনলাইন উপস্থিতি আড়ালে চলে যেতে পারে, কিন্তু ঝুঁকি পুরোপুরি কমবে না। বরং বিদ্যমান নিরাপত্তা আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ করাই বেশি জরুরি।
অন্যদিকে মলি রোজ ফাউন্ডেশন—যা ২০১৭ সালে আত্মহত্যা করা এক কিশোরীর পরিবারের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত—এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা জোরদারে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
পরবর্তী পদক্ষেপ
গণপরামর্শ চলবে ২৬ মে পর্যন্ত। সরকার গ্রীষ্মে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাবে। এ সময়ের মধ্যে সংসদ সদস্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠনের মাধ্যমে জনমত সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মূল প্রশ্নটি নিষেধাজ্ঞা নয়—বরং বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করবে। সরকার এখন জনমতের ভিত্তিতে সেই ভারসাম্য খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।
















