পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বললেন, জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সব শক্তি প্রয়োগের অধিকার রয়েছে
পারমাণবিক আলোচনার পরই হামলা, আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘনের অভিযোগ
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরানের সামরিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনসম্মত আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা। তাঁর ভাষায়, জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী নিজেদের রক্ষা করার পূর্ণ অধিকার ইরানের রয়েছে।
শনিবার তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ হামলা চালায়, যাকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বড় আকারের সামরিক অভিযান হিসেবে উল্লেখ করেন। ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় অন্তত ২০১ জন নিহত হয়েছেন।
এর জবাবে ইরান ইসরায়েল ছাড়াও উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। বাঘাই বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।
তিনি অভিযোগ করেন, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তৃতীয় দফা পরোক্ষ আলোচনা শেষ হওয়ার পরপরই হামলা চালানো হয়েছে। তাঁর দাবি, আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছিল এবং কারিগরি বিষয় নিয়ে পরবর্তী বৈঠকের প্রস্তুতি চলছিল। মধ্যস্থতাকারী দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও আলোচনাকে ইতিবাচক অগ্রগতি বলে উল্লেখ করেছিলেন।
বাঘাই বলেন, গত এক বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বার কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সামরিক হামলার মাধ্যমে ভেস্তে দেওয়া হলো। তাঁর মতে, এটি কেবল আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোকেও হুমকির মুখে ফেলেছে।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী আক্রমণকারী পক্ষকে যে কোনো ধরনের সহায়তা বা সরবরাহ প্রদানকারী স্থাপনাও বৈধ লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। তবে ইরান অঞ্চলের কোনো দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে না; বরং কেবল আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে।
বাঘাইয়ের বক্তব্যে স্পষ্ট, তেহরান এই সংঘাতকে একতরফা আগ্রাসন হিসেবে দেখছে এবং নিজেদের প্রতিক্রিয়াকে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় বৈধ প্রতিরোধ হিসেবে উপস্থাপন করছে।
















