ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা আলি শামখানি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক সূত্রের দাবি, হামলায় নিহত উচ্চপর্যায়ের ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে তিনি অন্যতম। তবে তেহরান থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
পারমাণবিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
সত্তর বছর বয়সী শামখানি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান আলোচনার তদারকি করছিলেন। সাম্প্রতিক দফার আলোচনার পর তিনি বলেছিলেন, যদি মূল প্রশ্ন হয় ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করা, তবে তা দেশের ধর্মীয় নির্দেশনা ও প্রতিরক্ষা নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ—এবং দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব।
আগেও হামলার লক্ষ্য
ইরান-ইসরায়েল বারো দিনের যুদ্ধে তার বাসভবনে হামলা হয়েছিল। সে সময়ও তার মৃত্যুর খবর ছড়ালেও পরে জানা যায়, তিনি গুরুতর আহত অবস্থায় জীবিত ছিলেন এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা কাঠামোয় প্রভাবশালী অবস্থান
যুদ্ধের পর গঠিত ইরানের প্রতিরক্ষা পরিষদের সচিব হিসেবে তিনি জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা নীতি সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছিলেন। এর আগে তিনি প্রায় এক দশক সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব ছিলেন—যা বিপ্লব-পরবর্তী সময়ের অন্যতম দীর্ঘ দায়িত্বকাল হিসেবে বিবেচিত।
সামরিক ও রাজনৈতিক জীবন
খুজেস্তান প্রদেশের আহভাজে জন্ম নেওয়া শামখানি ইরান-ইরাক যুদ্ধে বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কমান্ডার ছিলেন। পরে তিনি বিপ্লবী গার্ড নৌবাহিনী ও ইরানি নৌবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৯৭ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন এবং বিপ্লবের পর প্রথমবার সৌদি আরব সফরকারী ইরানি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি পান। এক পর্যায়ে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও অংশ নিয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছিলেন।
সব মিলিয়ে, আলি শামখানি ইরানের নিরাপত্তা ও কৌশলগত কাঠামোর এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন, যার সম্ভাব্য মৃত্যু চলমান আঞ্চলিক সংকটে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
















