সীমান্তে টানা তৃতীয় দিনের লড়াই, আন্তর্জাতিক মহলে মধ্যস্থতার আহ্বান
বান্নুতে মসজিদে ড্রোন হামলা, অন্তত পাঁচজন আহত
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে টানা তৃতীয় দিনের মতো সীমান্ত সংঘর্ষ অব্যাহত থাকায় উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইসলামাবাদ এটিকে কার্যত “উন্মুক্ত যুদ্ধ” পরিস্থিতি বলে উল্লেখ করেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কালাস দুই দেশকে উত্তেজনা কমিয়ে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন। ইরান, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, রাশিয়া এবং জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও পরিস্থিতি শান্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
আফগানিস্তানের তালেবান প্রশাসন আলোচনায় প্রস্তুতির কথা জানালেও পাকিস্তান স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনো সংলাপ হবে না। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মুশাররফ জাইদি বলেন, আফগান ভূখণ্ড থেকে সন্ত্রাসবাদ বন্ধ না হলে আলোচনার প্রশ্নই ওঠে না। তবে কাবুল এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তাদের মাটি কোনো দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয় না।
সীমান্তবর্তী এলাকায় পাল্টাপাল্টি হামলার খবর পাওয়া গেছে। আফগান গণমাধ্যম জানিয়েছে, মিরানশাহ ও স্পিনওয়াম অঞ্চলে পাকিস্তানি সামরিক শিবির লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের একটি সংবাদপত্র জানায়, বান্নু শহরের একটি মসজিদে ড্রোন আঘাতে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। পাকিস্তানি বাহিনীও আফগান তালেবানের বিভিন্ন অবস্থানে পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে।
সাম্প্রতিক সহিংসতার সূচনা হয় পাকিস্তানের বিমান হামলার পর, যার জবাবে আফগান বাহিনী কয়েকটি পাকিস্তানি জেলায় পাল্টা আক্রমণ চালায়। এরপর পাকিস্তান কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়া অঞ্চলে বিমান হামলা চালায়—যা ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর প্রথমবার তাদের দক্ষিণাঞ্চলীয় ঘাঁটি লক্ষ্য করে বড় আঘাত হিসেবে বিবেচিত।
উভয় পক্ষই বড় ধরনের হতাহতের দাবি করেছে, তবে সেসব সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান গোষ্ঠীকে দেশের ভেতরের হামলার জন্য দায়ী করে এবং অভিযোগ করে যে আফগানিস্তান তাদের আশ্রয় দিচ্ছে। কাবুল তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতা আফগানিস্তানের তুলনায় অনেক বেশি হলেও, দীর্ঘ যুদ্ধ অভিজ্ঞতায় তালেবানও সশস্ত্র সংঘাতে দক্ষ। ফলে এই উত্তেজনা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠেছে।
















