কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া সামরিক পদক্ষেপে ডেমোক্র্যাটদের তীব্র সমালোচনা
প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সীমিত করতে সিনেটে ভোটের আহ্বান, রিপাবলিকানদের একাংশেরও সমর্থন
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার পর প্রেসিডেন্টের যুদ্ধসংক্রান্ত ক্ষমতা সীমিত করতে নতুন করে আইন প্রণয়নের দাবি জোরালো হয়েছে। ডেমোক্র্যাট দলীয় আইনপ্রণেতারা হামলাকে বিপজ্জনক ও অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা বৃদ্ধি হিসেবে আখ্যা দিয়ে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন।
সিনেটর টিম কেইন, যিনি যুদ্ধক্ষমতা প্রস্তাবের মূল প্রণেতা, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানে হামলার নির্দেশকে বড় ধরনের ভুল সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি অবিলম্বে সিনেট অধিবেশন ডেকে তাঁর প্রস্তাবে ভোট নেওয়ার আহ্বান জানান, যাতে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ রাখা যায়। তাঁর ভাষায়, প্রতিটি সিনেটরের এ বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করা উচিত।
প্রতিনিধি পরিষদের সংখ্যালঘু নেতা হাকিম জেফরিজ বলেন, কংগ্রেসের অনুমোদন না নিয়েই হামলা চালানো হয়েছে, যা মার্কিন সেনাদের ইরানের পাল্টা হামলার ঝুঁকিতে ফেলেছে। তিনি প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে জনগণ ও কংগ্রেসকে ব্যাখ্যা দেওয়ার দাবি জানান।
সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার ইরানে হামলার বিষয়ে সব সিনেটরকে নিয়ে গোপন ব্রিফিং এবং প্রকাশ্য শুনানির দাবি তুলেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, হামলার পেছনের হুমকির পরিসর ও তাৎক্ষণিকতা সম্পর্কে প্রশাসন পর্যাপ্ত তথ্য দেয়নি।
গোয়েন্দা কমিটির সহসভাপতি মার্ক ওয়ার্নার বলেন, এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন ও বিস্তৃত সংঘাতে জড়িয়ে ফেলতে পারে। তিনি ইরাক যুদ্ধের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে সতর্ক করেন, ভুল তথ্য বা তড়িঘড়ি সিদ্ধান্তের পুনরাবৃত্তি যেন না হয়।
যদিও এই উদ্যোগে ডেমোক্র্যাটরা অগ্রণী ভূমিকা নিচ্ছেন, তবু কিছু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাও এতে সমর্থন জানিয়েছেন। রিপাবলিকান প্রতিনিধি থমাস ম্যাসি হামলাকে কংগ্রেসের অনুমোদনবিহীন যুদ্ধ ঘোষণা হিসেবে উল্লেখ করে বিরোধিতা করেছেন। সিনেটর র্যান্ড পলও সংবিধানগত দায়িত্বের কথা তুলে ধরে প্রেসিডেন্টের একতরফা যুদ্ধ ঘোষণার বিরোধিতা করেন।
সব মিলিয়ে ইরানে হামলার ঘটনাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাহী ক্ষমতা বনাম কংগ্রেসের সাংবিধানিক ভূমিকা নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। যুদ্ধক্ষমতা প্রস্তাবের ওপর ভোট হলে তা প্রেসিডেন্টের সামরিক সিদ্ধান্তে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
















