যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক সম্পদ থাকা একাধিক আরব দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। এতে পুরো অঞ্চলজুড়ে বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে থাকা সব মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে “শক্তিশালী আঘাত” হানা হয়েছে এবং আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করা হয়েছে এবং মানবিক ক্ষয়ক্ষতিতে তারা দুঃখিত।
সংযুক্ত আরব আমিরাত
রাজধানী আবুধাবিতে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হলেও অন্তত একজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দুবাইয়ের পাম জুমেইরাহ এলাকায় একটি ভবনে আগুন লাগে, কয়েকজন আহত হন।
বাহরাইন
রাজধানী মানামায় অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর লক্ষ্য করে হামলার দাবি করা হয়। কয়েকটি আবাসিক ভবনেও আঘাত হানার কথা জানিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
কুয়েত
আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে বলে কুয়েত জানায়। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও ড্রোন হামলার চেষ্টা হয়, কিছু ক্ষয়ক্ষতি ও সামান্য আহতের খবর রয়েছে।
কাতার
কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, পূর্বনির্ধারিত নিরাপত্তা পরিকল্পনার আওতায় সব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। একটি দূরপাল্লার আগাম সতর্কীকরণ রাডার লক্ষ্য করে হামলার কথা স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। দোহা জানিয়েছে, প্রতিবেশী দেশের এমন আক্রমণ গ্রহণযোগ্য নয়।
সৌদি আরব
রিয়াদ ও পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়। তারা বলেছে, নিজেদের আকাশসীমা ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে দেয়নি।
ইরাক
উত্তরাঞ্চলের এরবিল বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা প্রতিহত করা হয়েছে। বাগদাদের দক্ষিণ-পশ্চিমে একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর ঘাঁটিতে আঘাতে দুইজন নিহত হওয়ার খবর রয়েছে। আরও কয়েকটি স্থাপনায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
আকাশপথ ও সমুদ্রপথে প্রভাব
কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সাময়িকভাবে আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়। জাহাজ চলাচলকারী সংস্থাগুলো হরমুজ প্রণালী বন্ধের বার্তা পাওয়ার কথা জানিয়েছে। এই প্রণালী উপসাগরীয় প্রধান তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ওমানকে এড়িয়ে যাওয়া
উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের সদস্যদের মধ্যে কেবল ওমানের ওপর হামলা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে ওমান আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। সাম্প্রতিক পরোক্ষ আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর দেশটি সংঘাত বাড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে এবং আরও সামরিক প্রতিক্রিয়া আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পুরো অঞ্চল এখন উচ্চমাত্রার সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
















