গাজা উপত্যকায় নতুন হামলায় অন্তত আট ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে। একই দিনে ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননেও একাধিক হামলা চালিয়েছে।
রবিবারের হামলায় দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস শহরে চারজন ফিলিস্তিনি নিহত হন বলে নাসের হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে। হামলাটি তথাকথিত ‘হলুদ রেখা’র বাইরে সংঘটিত হয়েছে, যেখানে ইসরায়েলি সেনারা অবস্থান করছে।
উত্তর গাজার আল-ফালুজা এলাকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের একটি তাঁবুতে হামলায় আরও চারজন নিহত হন বলে আল-শিফা হাসপাতাল সূত্র জানায়।
এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ইসরায়েলের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, উত্তর গাজার একটি ভবনে সশস্ত্র যোদ্ধারা প্রবেশ করার পর সেখানে আঘাত হানা হয় এবং অন্তত দুজন নিহত হয়। আরও একজনকে ‘তাৎক্ষণিক হুমকি’ সৃষ্টি করার অভিযোগে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে তারা জানিয়েছে, যদিও এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
এদিকে দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর অস্ত্রভাণ্ডার ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপস্থল হিসেবে ব্যবহৃত গুদামঘরে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। ২০২৪ সালের নভেম্বরে উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও গাজা ও লেবাননে প্রায় প্রতিদিনই হামলার অভিযোগ উঠছে।
গাজার কর্তৃপক্ষের মতে, অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল এক হাজার পাঁচশ বারের বেশি লঙ্ঘন করেছে। এতে অন্তত ৫৯১ জন নিহত এবং এক হাজার ৫৯০ জন আহত হয়েছেন।
২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া অভিযানে গাজায় এখন পর্যন্ত ৭২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত ও প্রায় এক লাখ ৭১ হাজার আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। অবকাঠামোর প্রায় ৯০ শতাংশ ধ্বংস হয়েছে এবং প্রায় ২০ লাখ মানুষ মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে বসবাস করছেন।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, গাজা পুনর্গঠনে ৭০ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় হতে পারে।
লেবাননে যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েলি বাহিনী এক বছরে ১০ হাজারের বেশি আকাশ ও স্থল হামলা চালিয়েছে বলে জাতিসংঘ জানিয়েছে। এতে অন্তত ১০৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। একই সময়ে অন্তত ১১ জন লেবানিজ বেসামরিক নাগরিককে আটক করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
















