কেউ কেউ সহজাতভাবেই দারুণ ফ্লার্ট করতে পারেন, আবার অনেকেই মনে করেন—এই দক্ষতার অভাবই তাঁদের সামাজিক বা রোমান্টিক জীবনের বড় বাধা। তাহলে ভালো ও খারাপ ফ্লার্টারের পার্থক্যটা কোথায়? আর ফ্লার্ট করা কি শেখা যায়? সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে—যায়, এবং এর পেছনে রয়েছে স্পষ্ট বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা।
মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, কেউ যখন আপনার সঙ্গে ফ্লার্ট করে, তখন আপনি নিজেকে বেশি মূল্যবান ও আকর্ষণীয় মনে করেন। এতে আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং মন ভালো থাকে। গবেষণা দেখাচ্ছে, ফ্লার্টিং শুধু সামাজিক আনন্দই নয়, সম্পর্কের ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে।
ইসরায়েলের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ভার্চুয়াল বাস্তবতায় তৈরি এক ‘বারটেন্ডারের’ সঙ্গে হালকা ফ্লার্ট করার পর অংশগ্রহণকারীরা বাস্তব জীবনে অন্য আকর্ষণীয় মানুষের প্রতি তুলনামূলক কম আগ্রহ দেখিয়েছেন। এমনকি নিজেদের সঙ্গীর প্রতি আকর্ষণ বেড়েছে বলেও জানিয়েছেন অনেকে। গবেষকদের মতে, নিরাপদ ও সীমিত পরিসরে ফ্লার্টিং কখনো কখনো সম্পর্ককে আরও স্থিতিশীল করতে পারে। তবে এর জন্য নিজের ও সঙ্গীর সীমারেখা স্পষ্ট জানা জরুরি।
তবে সবাই যে ফ্লার্টে স্বচ্ছন্দ, তা নয়। এক জরিপে দেখা গেছে, হাজারো পুরুষের বড় একটি অংশ একাকিত্বের কারণ হিসেবে নিজের দুর্বল ফ্লার্টিং দক্ষতাকেই দায়ী করেছেন। আশার কথা হলো—এই দক্ষতা শেখা সম্ভব।
গবেষণায় দেখা গেছে, আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গি ফ্লার্টিংয়ের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে। সোজা হয়ে দাঁড়ানো, চোখে চোখ রেখে কথা বলা, শরীরকে খানিকটা খোলা ভঙ্গিতে রাখা—এসব আচরণ মানুষকে বেশি আকর্ষণীয় করে তোলে। বাস্তব জীবনের স্পিড ডেটিং থেকে শুরু করে অনলাইন ডেটিং প্রোফাইল—সব জায়গাতেই এই প্রভাব দেখা গেছে।
ফ্লার্টিং সব সময় কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। অনেক সময় এটি হয় নীরব ইশারা বা অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে—চুলে হাত বুলানো, হাসি, চোখাচোখি, মজার কথায় অতিরিক্ত হাসা কিংবা খাবার ভাগ করে নেওয়ার মতো আচরণ। মনোবিজ্ঞানীরা একে বলেন ‘কোভার্ট ফ্লার্টিং’। এতে একদিকে আগ্রহের ইঙ্গিত দেওয়া যায়, আবার প্রয়োজনে সহজেই পিছু হটার সুযোগও থাকে।
গবেষণা আরও বলছে, পুরুষরা অনেক সময় বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণকেও রোমান্টিক আগ্রহ হিসেবে বেশি ধরে নেন, আর নারীরা উল্টোভাবে আগ্রহকে কম করে বোঝেন। এখান থেকেই ‘ফ্রেন্ড জোন’-এর মতো ধারণার জন্ম।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সবচেয়ে বিরক্তিকর ফ্লার্টিং আচরণের একটি হলো—একজনের প্রতি মনোযোগ দেখিয়ে আবার অন্যদের দিকেও একই আগ্রহ ছড়িয়ে দেওয়া। মানুষ সাধারণত চায় তার প্রতি বিশেষ মনোযোগ থাকুক।
সব মিলিয়ে বিজ্ঞান বলছে, ফ্লার্টিং কোনো রহস্যময় জাদু নয়। আত্মবিশ্বাস, শরীরী ভাষা, পরিস্থিতি বোঝা আর সীমা মেনে চলাই ভালো ফ্লার্টের মূল চাবিকাঠি। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—অন্যজন সত্যিই আগ্রহী কি না, সেটি বুঝতে শেখা। কারণ সব হাসি বা সৌজন্য যে ফ্লার্ট, তা নয়।
















