যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে দাবি করেছেন, কিউবা খুব শিগগিরই ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হতে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘ ছয় দশকের বেশি সময় ধরে যে দেশটির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ চাপিয়ে রেখেছে, সেই কিউবাকে ঘিরে ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন কিছু নয়। তবে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে অপহরণের ঘটনার পর এই হুমকি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, কিউবা ভেনেজুয়েলার তেল ও অর্থনৈতিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল ছিল, যা এখন আর পাচ্ছে না। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি কিউবার সম্ভাব্য পতনের যুক্তি তুলে ধরেন। কিন্তু এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠছে, কিউবার তথাকথিত মিত্র রাষ্ট্রগুলো আদৌ কতটা কার্যকরভাবে দেশটির পাশে দাঁড়াচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তবে কিউবা এখন কেবল প্রতীকী সমর্থনই পাচ্ছে। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম কিউবার প্রতি সংহতির কথা বললেও, যুক্তরাষ্ট্রের চাপে দেশটি কিউবায় তেল সরবরাহ স্থগিত করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মেক্সিকো সরকার এটিকে ‘সার্বভৌম সিদ্ধান্ত’ হিসেবে ব্যাখ্যা করলেও, কিউবার বাস্তব সংকট এতে আরও তীব্র হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অবরোধের কারণে কিউবায় খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধের সংকট নতুন নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, একসময় বিনা মূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ও আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার জন্য পরিচিত দেশটিতে এখন নিত্যপ্রয়োজনীয় ওষুধও দুর্লভ।
লাতিন আমেরিকার অন্যান্য দেশও এই সংকটে কিউবার পক্ষে জোরালো অবস্থান নেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। একইভাবে এশিয়া ও আফ্রিকার অনেক দেশ, যাদের বৈশ্বিক দক্ষিণের অংশ হিসেবে ধরা হয়, তারাও মূলত আনুষ্ঠানিক বিবৃতি ও প্রতীকী কর্মসূচির মধ্যেই নিজেদের দায়িত্ব সীমাবদ্ধ রেখেছে।
চীন কিউবার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানালেও বাস্তব সহায়তার প্রশ্নে তেমন কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। ভারতের কিছু সংগঠন কিউবার প্রতি সংহতি প্রকাশ করলেও, তা মূলত সভা ও স্মরণ অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে কিউবার প্রয়োজন কার্যকর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহায়তা, শুধু বিবৃতি বা আনুষ্ঠানিক সংহতি নয়। যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে কিউবা যদি সত্যিই ভেঙে পড়ে, তাহলে সেটি শুধু একটি দেশের পতন হবে না, বরং বৈশ্বিক দক্ষিণের সম্মিলিত ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত হবে।
পর্যবেক্ষকেরা সতর্ক করে বলছেন, কিউবার দীর্ঘদিনের প্রতিরোধ যদি ভেঙে যায় এবং সেখানে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটে, তাহলে তা প্রমাণ করবে যে কোনো দেশই সাম্রাজ্যবাদী চাপ থেকে নিরাপদ নয়। এই মুহূর্তে প্রয়োজন বাস্তব ও সাহসী সংহতি, কারণ কিউবার পতন মানে শুধু কিউবার পরাজয় নয়, বরং বৈশ্বিক ন্যায়বিচার ও স্বাধীনতার ধারণারও বড় ধরনের ধাক্কা।
















