মস্কো—সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন। মস্কো সফরে এই বৈঠক এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন রাশিয়া সিরিয়ায়, বিশেষ করে সামরিকভাবে, নিজেদের উপস্থিতি বজায় রাখতে সক্রিয় চেষ্টা চালাচ্ছে। এক বছরের কিছু বেশি সময় আগে আল-শারার নেতৃত্বে বিদ্রোহী শক্তি রাশিয়ার দীর্ঘদিনের মিত্র বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়।
বুধবার বৈঠকের আগে এক সংবাদ সম্মেলনে আল-শারা সিরিয়ার ঐক্য রক্ষায় সমর্থনের জন্য পুতিনকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় রাশিয়ার ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক।
পুতিন আল-শারার নেতৃত্বে সিরিয়ায় স্থিতিশীলতা ফেরানোর উদ্যোগকে সমর্থন জানান এবং দেশটির ভৌগোলিক অখণ্ডতা পুনরুদ্ধারের পথে অগ্রগতির জন্য তাকে অভিনন্দন জানান।
দীর্ঘ সিরিয়া গৃহযুদ্ধের সময় পুতিন ও আল-শারা একে অপরের বিপরীত অবস্থানে ছিলেন। এতে মস্কোর মধ্যে সিরিয়ায় নিজেদের সামরিক উপস্থিতির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
বৈঠকের আগে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানান, আলোচনায় সিরিয়ায় রাশিয়ার সেনা উপস্থিতির বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। বর্তমানে রাশিয়ার সেনারা লাতাকিয়ার খমেইমিম বিমানঘাঁটি এবং ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে তারতুস নৌঘাঁটিতে অবস্থান করছে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে রাশিয়া উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার কুর্দি-নিয়ন্ত্রিত কামিশলি বিমানবন্দর থেকে নিজেদের সেনা প্রত্যাহার করেছে বলে জানা যায়। ফলে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের বাইরে রাশিয়ার হাতে থাকা একমাত্র সামরিক ঘাঁটি এখন এই দুটি ভূমধ্যসাগরীয় স্থাপনা।
মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক এক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে কামিশলির পরিত্যক্ত ঘাঁটির ভিডিওচিত্র প্রকাশ করা হয়েছে।
ঐতিহাসিকভাবে সিরিয়া ছিল মধ্যপ্রাচ্যে মস্কোর অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র। স্নায়ুযুদ্ধের সময় সোভিয়েত ইউনিয়ন দামেস্কের বাথ শাসনব্যবস্থাকে ব্যাপক সামরিক ও রাজনৈতিক সহায়তা দিয়েছিল, প্রথমে হাফেজ আল-আসাদ এবং পরে তার পুত্র বাশার আল-আসাদের আমলে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর মস্কো আশঙ্কা করেছিল, দামেস্কে রাশিয়াবিরোধী কোনো সরকার গড়ে উঠতে পারে। তবে আল-শারার বাস্তববাদী অবস্থানের কারণে রাশিয়া কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে।
আল-শারা যুক্তরাষ্ট্রসহ আঞ্চলিক ও বহির্বিশ্বের শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী হলেও একই সঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখছেন। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে সম্ভাব্য পরিবর্তনের ঝুঁকি সামলাতেই তিনি এই ভারসাম্য রক্ষা করছেন।
অক্টোবরে প্রথম মস্কো সফরের সময়ও আল-শারা তুলনামূলক নরম সুরে কথা বলেন, যদিও রাশিয়া বাশার আল-আসাদ ও তার স্ত্রীকে আশ্রয় দিয়েছে। আল-শারা একাধিকবার বাশার আল-আসাদের প্রত্যর্পণ দাবি করেছেন এবং বলেছেন, সাবেক শাসনের নিপীড়নের শিকার সিরীয়দের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।
এদিকে সিরিয়ায় নিজেদের উপস্থিতি ধরে রাখতে পুতিন বিশেষভাবে আগ্রহী বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো অপহৃত হওয়ার পর রাশিয়া আরেকটি মিত্র হারিয়েছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলা ও ইরান পরিস্থিতি মস্কো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ইরানও সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুমকির মুখে রয়েছে।
সিরিয়ার নতুন নেতৃত্ব রাশিয়ার প্রভাব কমিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক গড়তে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনও সেই ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে কুর্দি-নিয়ন্ত্রিত বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ নিয়ে সাম্প্রতিক উত্তেজনার পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে, যা আপাতত বহাল রয়েছে।
















