রাশিয়ার তথাকথিত ছায়া নৌবহরের সঙ্গে যুক্ত সন্দেহে জব্দ করা একটি তেল ট্যাংকারের ভারতীয় ক্যাপ্টেনকে ফ্রান্সের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ট্যাংকারটি জব্দ করার কয়েক দিন পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ফরাসি নৌবাহিনী গত বৃহস্পতিবার ভূমধ্যসাগরে গ্রিন্চ নামের ট্যাংকারটি আটক করে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, জাহাজটি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত এবং ভুয়া পতাকা ব্যবহার করার সন্দেহ রয়েছে।
গ্রিন্চ ট্যাংকারটি রাশিয়ার আর্কটিক অঞ্চলের মুরমানস্ক বন্দর থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিচ্ছিল। বর্তমানে এটি দক্ষিণ ফ্রান্সের মার্সেইয়ের কাছাকাছি একটি বন্দরে কড়া পাহারায় নোঙর করে রাখা হয়েছে।
মস্কো এখনো এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে ম্যাক্রোঁ বলেছেন, এই ধরনের ছায়া নৌবহর ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনায় অর্থ জোগাতে সহায়তা করছে।
মার্সেইয়ের প্রসিকিউটরের দপ্তর জানিয়েছে, জাহাজটির ৫৮ বছর বয়সী ক্যাপ্টেনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ট্যাংকারটির বাকি ক্রু সদস্যরাও ভারতীয় নাগরিক এবং তাদের সবাইকে জাহাজেই থাকতে বলা হয়েছে।
প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, তদন্তের মূল উদ্দেশ্য হলো ট্যাংকারটি যে পতাকা ব্যবহার করছিল, সেটির বৈধতা যাচাই করা। ফরাসি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, জাহাজটি কোমোরোস দ্বীপপুঞ্জের পতাকা ব্যবহার করছিল।
জাহাজটি যেখানে নোঙর করা আছে, সেই এলাকায় নৌ ও আকাশপথে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। জব্দ করার পর ফরাসি সেনারা ট্যাংকারটিতে তল্লাশি চালান।
ট্যাংকার জব্দের ঘোষণা দিতে গিয়ে ম্যাক্রোঁ বলেন, আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখা এবং নিষেধাজ্ঞার কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে ফ্রান্স দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর রাশিয়ার জ্বালানি খাতের ওপর একাধিক পশ্চিমা দেশ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে একটি অভিযানে আটলান্টিক মহাসাগরে রুশ পতাকাবাহী আরেকটি ট্যাংকার জব্দ করতে সহায়তা করে যুক্তরাজ্য।
এর আগে গত অক্টোবরে ফ্রান্স তার পশ্চিম উপকূলে বোরাকাই নামের আরেকটি নিষেধাজ্ঞাভুক্ত ট্যাংকার আটক করলেও কয়েক দিনের মধ্যে সেটি ছেড়ে দেওয়া হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ছায়া নৌবহরের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। ভেনেজুয়েলা, ইরান ও রাশিয়ার বিরুদ্ধে এ ধরনের নৌবহর ব্যবহার করে তেল পাচারের অভিযোগ রয়েছে। এক আর্থিক গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠানের হিসাবে, বিশ্বে চলাচলরত প্রতি পাঁচটি তেল ট্যাংকারের একটি নিষেধাজ্ঞাভুক্ত দেশ থেকে তেল পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছে।
















